ইসলামে বাদ্যযন্ত্রের হুকুম কি?
4 Answers
ইসলামি অনুষ্ঠানে হামদ নাত পরিবেশনে বাদ্যযন্ত্র বাজানো সঠিক নয়। দফ বাজানোর বিধান হল পূর্বের। প্রথমত জাহেলী যুগের প্রথা হিসেবে দফ বাজানো হতো। এর অনুমোদনও প্রথম প্রথম দেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সর্বপ্রকার বাদ্য বাজনা নিষিদ্ধ হয়ে যায়। এমন কি দফের বাজনাও। নিম্নোক্ত হাদীস দ্বারা দফ নিষিদ্ধ হওয়া পরিস্কার প্রমাণিত হয়! হযরত আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ দফ হারাম, বাদ্যযন্ত্র হারাম, মদের পেয়ালা হারাম, বাঁশী হারাম। [সুনানে সুগরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং ৩৩৫৯, সুনানে কুরবা লিলবায়হাকী, হাদীস নং২১০০০]
বাদ্যযন্ত্র বাজানো চাই সেটা গানের ক্ষেত্রে হোক বা হামদ-নাতের মজলিসে হোক কখনই জায়েয নয়। ইসলামী শরীয়তে এর কোন বৈধতা নেই।
হযরত আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন, بعثت لكسر المز أمير
অর্থাৎ, বাদ্য-যন্ত্র ধ্বংস করিবার জন্য আমি প্রেরিত হয়েছি। (কুফ-ফুর-রুয়া)
রাসূল(সা) বলেছেনঃ إن الله بعثني بمحق المعازف والمرامير
অর্থাৎ, নিশ্চয়ই বাদ্য-যন্ত্র ও বাশিঁর সুর বিলোপ সাধন করিবার জন্য আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্নিত, রাসূল (সা) বলেনঃ إستماع الملادمي معصية والجلوس عليها فسق والتلذبها من الكفر
অর্থাৎ, গান-বাদ্য শ্রবন করা কবিরা গুনাহ এবং ইহার আসরে যোগদান করা ফাসেকী আর গান-বাদ্য হইতে আনন্দ অনুভব করা কুফরি কাজ। (মুসনাদে আহমাদ)
বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন : মাসিক আল-কাউসার
বাদ্যযন্ত্র ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম চাই সেটা বৈধ কাজে ব্যবহার হোক বা অবৈধ কাজে। হাদীসে এসেছে- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের কিছু লোক মদের নাম পরিবর্তন করে তা পান করবে। আর তাদের মাথার উপর বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা রমনীদের গান বাজতে থাকবে। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে যমীনে ধ্বসিয়ে দিবেন।
-সুনানে ইবনে মাজাহ হাদীস : ৪০২০; সহীহ ইবনে হিব্বান হাদীস : ৬৭৫৮
অন্য হাদীসে এসেছে- আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে।-সহীহ বুখারী হাদীস : ৫৫৯০।
মুসনাদে আহমদের হাদীসে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা আমাকে মুমিনদের জন্য হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছেন এবং বাদ্যযন্ত্র, ক্রুশ ও জাহেলি প্রথা বিলোপসাধনের নির্দেশ দিয়েছেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেন, “মানুষের মধ্যে কেউ কেউ এমনও রয়েছে যারা অজ্ঞতায় লোকেদেরকে আল্লাহ্র পথ হতে বিচ্যুত করার জন্য অসাড় বাক্য বেছে নেয় এবং আল্লাহ্র প্রদর্শিত পথ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। ওদেরই জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।” (সূরা লুকমান ৬ আয়াত) ইবনে মাসঊদ (রাঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, ‘সেই আল্লাহ্র কসম যিনি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই! নিশ্চয় তা (অসার বাক্য) হচ্ছে গান।’ কিছু উলামার সিদ্ধান্ত এই যে, সাহাবীর তাফসীর রাসূল ﷺ এর তফসীরের পর্যায়ভুক্ত। কিন্তু শুদ্ধ অভিমত এই যে, তা রাসুল ﷺ এর তাফসীরের পর্যায়ভুক্ত নয়। অবশ্য তা বিভিন্ন উক্তিসমূহের মধ্যে সঠিকতার অধিকতর নিকটবর্তী। পক্ষান্তরে গান-বাজনা শ্রবণ করার অর্থই হল, সেই কর্মে আপতিত হওয়া, যা থেকে নবী ﷺ সাবধান করেছেন। বিতি বলেন, “নিশ্চয় আমার উম্মতের মধ্যে এমন কতক সম্প্রদায় হবে যারা ব্যাভিচার, রেশম বস্ত্র, মদ্য এবং বাদ্য-যন্ত্রকে হালাল মনে করবে।” (বুখারী) অর্থাৎ, তারা নারী-পুরুষের অবৈধ যৌন সম্পর্ক, মদপান এবং রেশমের কাপড় পরাকে হালাল ও বৈধ মনে করবে অথচ তারা পুরুষ, তাঁদের জন্য রেশম বস্ত্র পরিধান বৈধ নয়। অনুরূপ মিউজিক বা বাজনা শোনাকেও বৈধ ভাববে। আর বাদ্য-যন্ত্র, যার শব্দে মন উদাস হয়, এমন অসার যন্ত্রকে বলে। [ আশাকরি বুঝতে পেরেছেন]