কাযা নামাজের নিয়ম কি?
2 Answers
এক সাথে একাধিক লোকের নামায কাযা হলে এবং তারা জামাতের সাথে কাযা নামায আদায় করতে চাইলে কিরাত জোরে পড়তে হবে। আর একাকি হলে সে ক্ষেত্রে ইখতিয়ার; নি:শব্দে কিংবা সশব্দে উভয়ভাবে পড়া যায়। তবে নি:শব্দে পড়াই উত্তম। আর প্রথম ক্ষেত্রে ইকামত দিতে হবে তবে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে দিতে হবে না।
একাধিক সালাতের কাযা ধারাবাহিকভাবে আদায় করতে হবে। একাধিক নির্ধারিত সময়ের কাযা নামাযের জন্য এক আযান যথেষ্ট তবে প্রত্যেক নামাযের জন্য পৃথক ইকামত বলা। কাযা সালাত আদায়ের ব্যাপারে তাড়াতাড়ি করা মুস্তাহাব। আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খায়বার যুদ্ধ থেকে ফেরার সময় রাত্রে সফর করলেন। অবশেষে যখন তাঁর তন্দ্রা পেল, তখন তিনি শেষ রাত্রে মনযিল করলেন এবং বিলাল (রাঃ) কে নির্দেশ দিলেন, তুমি আমাদের জন্য এ রাতের প্রতি লক্ষ্য রাখ। তারপর বিলাল (রাঃ) সালাত আদায় করেন যা তার সামার্থ ছিল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও সাহাবায়ে কিরাম ঘুমিয়ে পড়েন। ফজরের সময় ঘনিয়ে এলে বিলাল (রাঃ) পূর্ব দিকে মুখ করে তাঁর বাহনের উপর হেলান দিয়ে বসে পড়লেন। বিলালের চোখ নিদ্রায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল। তখন তিনি তার সাওয়ারীতে হেলান দেয়া অবস্থায়ই ছিলেন। ফলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিলাল (রাঃ) বা সাহাবীদের কেউই জাগলেন না, যতক্ষন না সূর্যের কিরণ তাঁদের উপর পতিত হল। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সর্বপ্রথম জাগলেন, এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পেরেশান হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন হে বিলাল! বিলাল বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান। আপনার আত্মা যিনি ধরে রেখেছেন, আমার তিনি ধরে রেখেছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সাওয়ারীগুলোকে এখান থেকে নিয়ে চল। তারপর কিছুদূর নেওয়ার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অজু করলেন এবং বিলাল (রাঃ) কে আদেশ দিলেন। তিনি সালাতের ইকামত দিলেন। তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করে বললেন, তোমাদের কেউ যদি সালাত ভুলে যায়, তবে স্মরণমাত্র যেন আদায় করে নেয়। কেননা আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেনঃ তোমরা আমার স্মরণের জন্য নামায কায়েম কর। (সহীহ মুসলিম, হাদিস নম্বরঃ ১৪৩৩) [স্বাভাবিক নিয়মেই সালাত আদায় করতে পারবেন। কাযা সালাতের বিষয়ে আলিমগণ এই মতটাই গ্রহণ করেছেন যে, কাযার সময় প্রতেক সালাতের জন্য ইকামত দেওয়া যায়। ইকামত না দিলেও তা হয়ে যাবে।]
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy