কোরবানীর গোস্ত তিন ভাগে করতে হবে এর দলিল কি?
কোরবানীর গোস্ত তিন ভাগে করতে হবে এর দলিল কি? আল-কুরআন বা সহিহ হাদিস দ্বারা এটাকি প্রমাণিত?
4 Answers
কোরবানির গোশত বণ্টনের পদ্ধতি কোরবানির গোশত নিজে খান , আত্মীয়-স্বজনকে উপহার দিন এবং গরীব-মিসকীনদের দান করুন। সালাফী সালেহীনদের অনেকে এই গোশতকে ৩ ভাগে ভাগ করে একভাগ নিজে খেতেন , একভাগ উপহার দিতেন এবং অপর একভাগ দান করতেন। অবশ্য এ ব্যাপারে কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কোরবানির মাংস কিভাবে , কয় ভাগে বন্টন করতে হবে , এই মর্মে রাসূল (সাঃ) থেকে সহীহ সুত্রে কিছুই প্রমাণিত নেই। ** তবে রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা কোরবানির গোশত খাও , জমা রাখ এবং ছদকা বা দান কর [প্রমান দেখুনঃ- সহীহ মুসলিম শরীফ , ৫ম খন্ড , হাদীস নং- ১৯৭১ (ফুয়াদ আব্দুল বাকীর নম্বর) , ৪৯৪২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর নম্বর) , ৪৯৯৭ (হাদীস একাডেমী এর নম্বর) , ৪৯৪৭ (বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার এর নম্বর) / সুনানে আবু দাউদ , ৪র্থ খন্ড , হাদীস নং- ২৮০৩ , ২৮০৪ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ , পৃষ্ঠা নং- ৯৫ ও মিনা বুক হাউজ , পৃষ্ঠা নং- ৬৪২ ) ; ২৮১২ , ২৮১৩ (আলবানী একাডেমী , পৃষ্ঠা নং- ১৪৯ ) / সুনানে নাসাঈ শরীফ , ৪র্থ খন্ড , হাদীস নং- ৪৪৩২ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ , পৃষ্ঠা নং- ২৭৫) ; ৪৪৩৩ (মিনা বুক হাউজ , পৃষ্ঠা নং- ৮৯১ ) ** এছাড়াও নবী (সাঃ) বলেছেনঃ তোমরা কোরবানির মাংস নিজেরা খাও , অন্যদের খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখ। [প্রমান দেখুনঃ সহীহ বোখারী শরীফ , হাদীস নং- ৫১৭১ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এর নম্বর) ; ৫৫৬৯ (তাওহীদ পাবলিকেশন্স এর নম্বর) ; ১৫৬২ (আধুনিক প্রকাশনীর নম্বর) ] যেহেতু কোরবানির মাংস বন্টন প্রসঙ্গে কোরআন ও সহীহ হাদীসে স্পষ্ট কোন নীতিমালা উল্লেখ করা হয়নি। তবে কোরআনের একটি আয়াতে বলা হয়েছেঃ ** আর উট (কোরবানির পশু) কে আমি (আল্লাহ) করেছি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন , তোমাদের জন্য এতে মঙ্গল রয়েছে। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারন কর ; অতঃপর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং আহার করাও ধৈর্যশীল অভাবগ্রস্থকে এবং ভিক্ষাকারী অভাবগ্রস্থকেও। আমি (আল্লাহ) এভাবে ঐ পশুগুলোকে তোমাদের বশীভুত করে দিয়েছি যেন তোমরা শোকর কর। [ সূরা নং- ২২ , সূরা আল হাজ্জ , আয়াত নং- ৩৬] উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস গুলোর আলোকে অনেকে কোরবানির মাংসকে ৩ ভাগে ভাগ করা মুস্তাহাব বলেছেন। যার মধ্যে এক ভাগ নিজ পরিবারের খাওয়ার জন্য , এক ভাগ বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদেরউপহার দেয়ার জন্য এবং বাকী এক ভাগ গরীব-মিসকীনদের দান করার জন্য। [দেখুনঃ- তাফসীরে কুরতুবী ১২/৩২ ; বাদায়েউছ ছানায়ে ৫/৮০-৮১ ; আল মুগনী-ইবনু কুদামাহ , ইত্যাদি]
কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করা যায়। একভাগ নিজেদের ও একভাগ প্রতিবেশীদের যারা কুরবানী করেনি এবং এক ভাগ ফকীর-মিসকীনদের। প্রয়োজনে বণ্টনে কমবেশী করাতে কোন দোষ নেই (সুবুলুস সালাম শরহ বুলূগুল মারাম ৪/১৮৮; আল-মুগনী ১১/১০৮; মির‘আত ২/৩৬৯; ঐ, ৫/১২০ পৃঃ)।
ঠিক তিন ভাগ করতে হবে এমন কোন নিয়ম নেই তবে হাদিস অনুসারে অাত্মিয়, প্রতিবেশী ও গরীবদের নিয়ে খেতে বলা হয়েছে। অাপনি যদি সম্পুর্ন মাংস নিজেরাও খান তাতেও কোরবানির কোন সমস্যা হবে না।
কুরবানীর গোস্ত নিজে খাবে। আত্মীয়দের দিবে। গরীব মিসকিনদের হাদিয়া দিবে। তবে উত্তম হল, গোস্তকে তিন ভাগে ভাগ করে একভাগ নিজেদের জন্য, একভাগ আত্মীয়দের জন্য আর একভাগ গরীবদের জন্য দান করে দিবে। তবে যদি তিন ভাগ না করে পুরোটাই নিজের জন্য রেখে দেয় এটিও জায়েজ আছে। ﻭَﺍﻟْﺄَﻓْﻀَﻞُ ﺃَﻥْ ﻳَﺘَﺼَﺪَّﻕَ ﺑِﺎﻟﺜُّﻠُﺚِ ﻭَﻳَﺘَّﺨِﺬَ ﺍﻟﺜُّﻠُﺚَ ﺿِﻴَﺎﻓَﺔً ﻟِﺄَﻗْﺮِﺑَﺎﺋِﻪِ ﻭَﺃَﺻْﺪِﻗَﺎﺋِﻪِ ﻭَﻳَﺪَّﺧِﺮَ ﺍﻟﺜُّﻠُﺚَ؛ ﻭَﻳُﺴْﺘَﺤَﺐُّ ﺃَﻥْ ﻳَﺄْﻛُﻞَ ﻣِﻨْﻬَﺎ، ﻭَﻟَﻮْ ﺣَﺒَﺲَ ﺍﻟْﻜُﻞَّ ﻟِﻨَﻔْﺴِﻪِ ﺟَﺎﺯَ ﻟِﺄَﻥَّ ﺍﻟْﻘُﺮْﺑَﺔَ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺈِﺭَﺍﻗَﺔِ ﻭَﺍﻟﺘَّﺼَﺪُّﻕِ ﺑِﺎﻟﻠَّﺤْﻢِ ﺗَﻄَﻮُّﻉٌ ( ﺭﺩ ﺍﻟﻤﺤﺘﺎﺭ، ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻻﺿﺤﻴﺔ، 6/328 )
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy