1 Answers

মানুষের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত- উক্তিটি যথার্থ।
স্বাধীনতা আছে বলেই ব্যক্তি তার উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। স্বাধীনতাবিহীন ব্যক্তিসত্ত্বার উন্নয়ন ও বিকাশ সম্ভব নয়। এ কারণেই মানুষের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত।
সাধারণ অর্থে স্বাধীনতা হলো অপরের কাজে কোনোরূপ হস্তক্ষেপ না করে নিজের কাজ সম্পাদন করার অধিকার। অর্থাৎ স্বাধীনতা হলো অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ না করে নিজের অধিকার পূর্ণভাবে ভোগ করা। ব্যক্তি সমাজ বা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে এ স্বাধীনতা ভোগ করে। এই স্বাধীনতাগুলোই তার উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক হয়। যেমন- ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ফলে ব্যক্তি নিজস্ব কাজকর্মের অধিকার ভোগ করতে পারে। এই স্বাধীনতা অন্যকে স্পর্শ করে না। কর্মের স্বাধীনতা, পারিবারিক গোপনীয়তা রক্ষার স্বাধীনতা, নির্দিষ্ট পেশা বাছাইয়ের স্বাধীনতা হচ্ছে ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। এর মাধ্যমে ব্যক্তি নিজের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে পারে। আবার সামাজিক স্বাধীনতার মাধ্যমেও ব্যক্তি নিজের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে পারে। সামাজিক স্বাধীনতা বলতে মানুষ সভ্য সামাজিক জীবনযাপনের জন্য যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে সেসব সুযোগ- সুবিধাকে বোঝায়। সভ্য জীবনযাপন যেকোনো ব্যক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে - মুখ্য ভূমিকা পালন করে। রাজনৈতিক স্বাধীনতাও ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের - উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়তা করে। রাজনৈতিক স্বাধীনতার বলেই ব্যক্তি রাষ্ট্রের শাসনকাজে অংশগ্রহণ করে যা তার মধ্যে রাজনৈতিক চেতনার জন্ম দেয়। ফলে সে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে নিজের বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটাতে সক্ষম হয়। এমনিভাবে অর্থনৈতিক স্বাধীনতাও ব্যক্তির সুকুমার বৃত্তির বিকাশ ঘটায়। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা, বলতে ব্যক্তির জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সুযোগ-সুবিধা লাভের অধিকারকে বোঝায়। ব্যক্তি যখন জীবনধারণের অধিকার পূর্ণমাত্রায় ভোগ করবে তখন তার মধ্যে নৈতিক অবনতির সম্ভাবনা কম থাকবে। যা ব্যক্তির উন্নয়ন ও বিকাশে সহায়ক হবে।
উপরের আলোচনা শেষে এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ব্যক্তির বিভিন্ন দিকের উন্নয়ন ও বিকাশ স্বাধীনতার দ্বারা সুরক্ষিত।

5 views

Related Questions

পৃথিবীর ধনী দেশগুলোতে অসমতার বিস্ফোরণ ঘটেছে তা ঠিক, কিন্তু গত কয়েক দশকে যে গরিব মানুষের জীবনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে তা-ও বলা দরকার। ১৯৮০ থেকে ২০১৬ সাল এই সময়ের আয়ের নিরিখে নিচের দিকে থাকা ৫০ শতাংশ মানুষের আয় দ্বিগুণ হয়েছে। ১৯৯০ সালের পর দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও অর্ধেক কমেছে। ইতিহাসের আর কোন সময়ে এত মানুষ এত অল্প সময়ে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসেনি। জীবনমানের উন্নতিও হয়েছে ব্যাপক। এমনকি যারা এখনও গরিব, তাদের জীবনেও একথা প্রযোজ্য। ১৯৯০ এর দশকের পর সারা বিশ্বে সন্তান জন্মদানের সময় মৃত্যুহারের অর্ধেক কমেছে। নবজাতকের মৃত্যুর হারও একইভাবে কমেছে এবং এতে দশ কোটি বেশি শিশুর জীবন রক্ষা পেয়েছে। আজ যেসব দেশে বড় ধরনের সামাজিক গোলযোগ নেই, সেইসব দেশের প্রায় সব শিশুই প্রাথমিক শিক্ষা পাচ্ছে। (Translate into English)
1 Answers 4 Views