1 Answers
'উক্ত উৎসটি অর্থাৎ ধর্মই আইনের একমাত্র উৎস নয়'- কথাটি যথার্থ।
উদ্দীপকে আইনের অন্যতম উৎস ধর্মের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে ধর্ম ছাড়াও আইনের আরো অনেকগুলো উৎস রয়েছে। যেমন- প্রথা, আইনবিদদের গ্রন্থ, বিচারকের রায়, ন্যায়বোধ, আইনসভা প্রভৃতি।
প্রথা আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। প্রত্যেক সমাজে প্রচলিত অনেক রীতি-নীতি থাকে। রাষ্ট্র গঠনের পর এসব প্রচলিত প্রথা স্বীকৃতি লাভ করে আইনে পরিণত হয়। বিচারকরা কোনো মামলার বিচারকাজ সম্পাদন করতে গিয়ে আইন সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে তা সমাধানের জন্য আইনবিশারদদের বিজ্ঞানসম্মত গ্রন্থের সাহায্য নিয়ে এসব আইন ব্যাখ্যা করেন, যা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হয়। আদালতে উত্থাপিত মামলার বিচার করার জন্যে প্রচলিত আইন অস্পষ্ট হলে বিচারকরা তা ব্যাখ্যার মাধ্যমে সুস্পষ্ট করে উক্ত মামলার রায় দেন। পরবর্তীতে সেই রায় আইনে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে বিচারকরা সেসব রায় অনুসরণ করে বিচার করেন। আদালতে এমন অনেক মামলা উত্থাপিত হয়, যা সমাধানের জন্যে অনেক সময় কোনো আইন বিদ্যমান থাকে না। সে অবস্থায় বিচারকরা তাদের ন্যায়বোধ বা বিবেক দ্বারা উক্ত মামলার বিচার কাজ সম্পাদন করেন এবং তা পরবর্তীতে আইনে পরিণত হয়। আধুনিককালে আইনের প্রধান উৎস আইনসভা। জনমতের সাথে সঙ্গতি রেখে বিভিন্ন দেশের আইনসভা নতুন আইন প্রণয়ন করে এবং পুরাতন আইন সংশোধন করে যুগোপযোগী করে তোলে।
উপরের আলোচনা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, ধর্মই আইনের একমাত্র উৎস নয়। ধর্ম ছাড়াও আইনের উপরোক্ত উৎসগুলোও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।