1 Answers
উক্ত উৎস অর্থাৎ আইনসভা আইনের একমাত্র উৎস নয়।
আধুনিক রাষ্ট্রে আইনসভাই আইনের প্রধান উৎস, তবে একমাত্র উৎস নয়; এটি ছাড়াও আইনের আরও অনেক উৎস রয়েছে। এগুলো হলো- ১. প্রথা, ২. ধর্ম, ৩. বিচারসংক্রান্ত রায়, ৪. বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা ও ৫. ন্যায়বোধ। প্রথা হচ্ছে আইনের সবচেয়ে প্রাচীনতম উৎস। সমাজের প্রচলিত রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও অভ্যাসই হচ্ছে সামাজিক প্রথা। ব্রিটেনের অধিকাংশ আইন প্রথা থেকে এসেছে। দেখা যায়, মানুষের ওপর ধর্মের প্রভাব অপরিসীম। প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ঐশ্বরিক আইন অনুসরণ করে আসছে। তাই ধর্ম, ধর্মীয় অনুশাসন ও ধর্মগ্রন্থ আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আবার বিচারকালে বিচারক যদি প্রচলিত আইনের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করতে ব্যর্থ হন তখন তিনি স্বীয় বুদ্ধি, মেধা এবং প্রজ্ঞার সাহায্যে প্রচলিত আইনের সাথে সংগতি রেখে আইনের নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বিচারের রায় প্রদান করেন, যা একটি দৃষ্টান্ত হয়ে যায় এবং এক সময় আইনে পরিণত হয়। আইনবিদদের বিজ্ঞানসম্মত আলোচনা বা তাদের আইন বিষয়ক গ্রন্থাবলিও আইনের উৎস হিসেবে কাজ করে। বিচারক যখন প্রচলিত আইনের মাধ্যমে কিংবা উপযুক্ত আইনের অভাবে ন্যায়বিচার করতে ব্যর্থ হয়ে নিজস্ব সামাজিক নীতিবোধের আলোকে ন্যায্য রায় প্রদান করেন, তখন তার নীতিবোধের দ্বারা প্রণীত আইন দেশের আইনের পূর্ণ মর্যাদা লাভ করে। পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, আইনসভা আইনের একমাত্র উৎস নয়।