1 Answers

উদ্দীপকের বায়েজিদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
পরিবার মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসা দিয়ে পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাহিদা পূরণ করে। নিজের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পরিবারের অন্যান্য সদস্যের সাথে ভাগাভাগি করে প্রশান্তি লাভ করা যায়। যেমন- কোনো বিষয়ে মন খারাপ হলে মা-বাবা, ভাই-বোনদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে তার সমাধান করা যায়। এ ধরনের আলোচনা মানসিক ক্লান্তি মুছে দিতে সাহায্য করে। তাছাড়া পরিবার থেকে শিশু উদারতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণগুলো শিক্ষা লাভ করে, যা তাদের মানসিক দিককে সমৃদ্ধ করে। আর পরিবারের যেসব কাজের মাধ্যমে আমরা আনন্দ পাই সেগুলোকেই পরিবারের বিনোদনমূলক কাজ বলা হয়। বর্তমানে পরিবারের সদস্যদের সাথে গল্প-গুজব ও হাসি-ঠাট্টা করা, গান শোনা, টিভি, সিনেমা ও নাটক দেখা, বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে যাওয়া প্রভৃতির মাধ্যমে আমরা বিনোদন লাভ করি। আর এগুলোই পরিবারের বিনোদনমূলক কাজ।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মি. সালাম ও তার স্ত্রী উভয়ে চাকরিজীবী হওয়ায় একমাত্র সন্তান বায়েজিদকে 'ছাত্রাবাসে রেখে পড়ালেখা করান। বেশির ভাগ সময় সে একা থাকায় নিজের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা কারও সাথে ভাগাভাগি করতে পারে না। তাই সে আত্মীয়-স্বজন কারও সাথে মিশতে চায় না। এখানে পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজের অভাব পরিলক্ষিত হয়। পরিবার একটি শাশ্বত ও মানবিক প্রতিষ্ঠান। পরিবার থেকে শিশু উদারতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা প্রভৃতি গুণের শিক্ষা লাভ করে। কিন্তু পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজ অনুপস্থিত থাকলে শিশুদের মধ্যে উদারতা, সহনশীলতা, সহমর্মিতা, সামাজিকতা প্রভৃতি গুণের বিকাশ ঘটে না। যেমনটি উদ্দীপকে বায়েজিদের ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।

উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, বায়েজিদের মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক ও বিনোদনমূলক কাজের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

4 views

Related Questions