1 Answers

অমিতের গার্মেন্টস-এর ওপর কোর্স করার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অর্থনীতির 'সুযোগ ব্যয়' এবং 'যুক্তিবাদী মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে' নীতি দুটি প্রতিফলিত হয়েছে।

সুযোগ ব্যয়' নীতিটি দ্বারা বোঝায়, সর্বোত্তম বিকল্প ত্যাগ। অর্থাৎ একটি দ্রব্যের অতিরিক্ত উৎপাদন পাওয়ার জন্য অপর দ্রব্যের যতটুকু ছেড়ে দিতে হয়, সেই ছেড়ে দেওয়ার পরিমাণ হলো সুযোগ ব্যয়। অর্থনীতির অন্য একটি নীতি হলো 'মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করে'। এই নীতিটির মূল কথা হলো কোনো একটি দ্রব্য ভোগ যদি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হয় তাহলে অতিরিক্ত একক ভোগ থেকে যে উপযোগ পাওয়া যায় তা কতটুকু উপকারে আসছে তা নিয়ে চিন্তা করা।

উদ্দীপকে আনিসুল হক তার ছেলে অমিতকে নিজেদের পোশাক কারখানায় ম্যানেজার হিসেবে যোগ দিতে বলেন। কিন্তু অমিত গার্মেন্টস-এর ওপর একটি কোর্স করতে আমেরিকায় চলে যায়। যা সুযোগ ব্যয়ের ধারণাকে নির্দেশ করে। কারণ বিদেশে গিয়ে কোর্স করার জন্য সে ম্যানেজার হিসেবে যোগদান করতে পারছে না। তাছাড়া অমিত মনে করে, গার্মেন্টস বিষয়ের কোর্স করার মধ্য দিয়ে তার কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি পাবে এবং সে ভবিষ্যতে আরও ভালো করবে। অমিতের এরূপ চিন্তাধারার মাধ্যমে অর্থনীতির প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা নীতির প্রতিফলন ঘটেছে।

উপরের আলোচনার মাধ্যমে বলা যায়, সুযোগ ব্যয়ের মাধ্যমে মানুষ দুই বা ততোধিক কাজের মধ্যে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজটিকে আগে সম্পাদন করার চেষ্টা করে। আবার দেখা যায়, মানুষ প্রান্তিক পর্যায়ে চিন্তা করতে পারে। অর্থাৎ কোনো একটি দ্রব্য ক্রমান্বয়ে ভোগের ফলে যদি প্রাপ্ত প্রান্তিক উপযোগ তার প্রান্তিক ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয় তখন সেটি হবে একটি যুক্তিবাদী মানুষের চিন্তা এবং সেই অতিরিক্ত একক ভোগ তার উপকারে আসবে।

5 views

Related Questions

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার তিন বছর ধরে ৭ শতাংশের ওপরে যা নিয়ে দেশের নীতিনির্ধারকসহ বিভিন্ন মহল স্বাভাবিকভাবেই বেশ উচ্ছ্বসিত। এই উচ্ছ্বাসে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে এইচএসবিসি গ্লোবাল রিসার্চের হালনাগাদ একটি প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদন অনুসারে ২০৩০ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ২৬তম অর্থনীতির দেশ, এখন যে অবস্থানে আছে অস্ট্রিয়া । কিন্তু জিডিপি প্রবৃদ্ধির উচ্চ হারই শেষ কথা নয়, নয় একমাত্র অভীষ্ট। এটি অর্থনীতির আকার বা পরিমাণ নির্দেশ করে মাত্র। বরং নীতিনির্ধারক মহলের কাছে টেকসই প্রবৃদ্ধি ও প্রবৃদ্ধির গুণগত দিকটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু উচ্চ হারে প্রবৃদ্ধি বিশ্বের বহু দেশেই গরিবি যথেষ্ট কমাতে পারেনি, পারেনি সমাজে আয়বৈষম্য কমাতে, বরং তা বাড়িয়েছে। আসলে গরিবি কমা বা আগের তুলনায় বেশি মানুষের উন্নততর জীবনযাপনের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া নির্ভর করে প্রবৃদ্ধির বণ্টনের ওপর। বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধি এখনো সম্পদের সুসম বা ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে পারেনি, তা বিভিন্নভাবে সমাজে প্রতিফলিত হয়। (Translate into English)
1 Answers 6 Views
বাংলাদেশ অমিত সম্ভাবনার দেশ। গত বিশ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৪.৫ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭.৮ শতাংশের অধিক হয়েছে। একই সময়ে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২.০ শতাংশ থেকে হ্রাস পেয়ে ১.২৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দুটো উপাদান বাংলাদেশের অর্থনীতির দ্রুত প্রবৃদ্ধি ও ব্যাপক দারিদ্রা হ্রাসের পেছনে প্রধান চালিকাশক্তির কাজ করেছে। একটি হলো রপ্তানি আয়ের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি; আরেকটি হলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়ের ব্যাপক প্রবাহ। উল্লেখ্য বাংলাদেশ গত দশ বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিটেন্স পেয়েছে। বিশ্বের নীতিনির্ধারকগণ বাংলাদেশকে তাই দ্রুততর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দেশের সারিতে বিবেচনা করেন। (Translate into English)
1 Answers 4 Views