1 Answers
উদ্দীপকে "?" চিহ্নিত আন্দোলনটি নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে নির্দেশ করেছে। স্বৈরশাসক জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটিয়ে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে-এ গণ-আন্দোলন সংঘটিত হয়েছিল।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের শাসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছাত্র- জনতার প্রতিরোধ, আন্দোলন, সংগ্রাম মোকাবেলা করেছেন জেনারেল এরশাদ। তার ক্ষমতা দখলের পর থেকেই বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম সংগঠিত হতে থাকে। এরশাদবিরোধী আন্দোলন বেগবান করতে ২২টি ছাত্র সংগঠন মিলে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত করেছিল।
উদ্দীপকে "?" চিহ্নিত স্থান ১৯৯০ সালের নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে নির্দেশ করে। এ আন্দোলনের পেছনে বিভিন্ন কারণ বিদ্যমান। ১৯৮৬ সালের ৭ই মে অনুষ্ঠিত তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ৮ দলীয় জোট এবং জামায়াতে ইসলামীসহ মোট ২৮টি দল অংশগ্রহণ করে। নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য দল এরশাদের বিরুদ্ধে মিডিয়া ক্যুর মাধ্যমে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উত্থাপন করে। পর্যবেক্ষকগণও এ অভিযোগ যথার্থ বলে একমত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ সালের ১৫ই অক্টোবর প্রহসনমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে এরশাদকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করা হয়। ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সংসদ ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর থেকেই এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে সকল রাজনৈতিক দল, সাধারণ জনগণ এবং নাগরিক সমাজ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এরশাদের পদত্যাগ ও একটি অর্থবহ নির্বাচনের দাবিতে বিরোধী দলগুলো দুর্বার গণআন্দোলন শুরু করে। স্বৈরাচারী এরশাদের দলীয় পেটোয়াবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আন্দোলনরত জনগণের ওপর গুলিবর্ষণ করে অনেক মানুষকে হত্যা করে। ধারাবাহিক আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পুলিশের গুলিতে ডা. শামসুল আলম খান মিলন নিহত হলে এরশাদবিরোধী আন্দোলন গণ-অভ্যুত্থানের রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার এই গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এরশাদের পতন হয়। দীর্ঘ স্বৈরশাসনের অবসান ঘটে।