1 Answers
উদ্দীপকের টমাস রো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের কথা উল্লেখ করেছেন।
১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণ ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তার ভাষণ দেশের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে। ৭ মার্চের এ ভাষণ পরেও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে 'বজ্রকণ্ঠ' নামে প্রচারিত হয়, যা বাঙালিকে স্বাধীনতার লড়াইতে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। উদ্দীপকে এ ভাষণের কথাই বলা হয়েছে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অস্ট্রেলীয় শিক্ষার্থী টমাস রো মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণার জন্য বাংলাদেশে আসেন। তিনি পাকিস্তানিদের বিভিন্ন অন্যায়- অত্যাচারের কথা শুনে আঁতকে ওঠেন। বিশেষ করে একটিমাত্র বক্তব্য কীভাবে এত তাড়াতাড়ি একটি দেশের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল তা ভেবে তিনি বিস্মিত হন। উদ্দীপকে যে বক্তব্যের কথা বলা হয়েছে তা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের ইঙ্গিতবহ।
সামরিক সরকার ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর না করায় পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সারাদেশে নানারকম উদ্বেগ, উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণ ছিল সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা। সেদিন ঢাকার রেসকোর্স ময়দানের সমাবেশে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামে। এ সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন তা ইতিহাসে অমর হয়ে আছে। এদিন বঙ্গবন্ধু তার ভাষণের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দেশবাসীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দেন। ৭ মার্চের পর বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসহ বিভিন্ন দলের সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয়। পূর্ব বাংলার দিকে দিকে ব্যাপক প্রতিরোধ প্রস্তুতি গড়ে উঠতে থাকে যা ২৬ মার্চের পর পরিপূর্ণতা পায়। তাই ৭ মার্চের ভাষণ বাঙালি জাতির স্বাধীনতা আন্দোলনে মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।