1 Answers
'খ' অঞ্চলের জনগণের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মিল আছে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্মলগ্ন থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকরা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, সামরিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্য ও নিপীড়নমূলক নীতি অনুসরণ করে। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসন ও শোষণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৬ সালে ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি ছয় দফাকে 'আমাদের বাঁচার দাবি' আখ্যায়িত করে এর পক্ষে দ্রুত জনমত গঠনের ব্যবস্থা করেন। ছয় দফার জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পেলে আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে ১৯৬৬ সালের ৯ মে গ্রেফতার করে। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে-সারাদেশে হরতাল পালিত হয়। ১৯৬৮ সালে বঙ্গবন্ধুকে ঐতিহাসিক আগরতলা' মামলায় অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু করে। কিন্তু এর প্রতিবাদে ১৯৬৯ সালে আইয়ুব বিরোধী গণআন্দোলন শুরু হলে সরকার বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরবর্তীকালে সবচেয়ে বড় আন্দোলন।
উদ্দীপকের বর্ণনায় লক্ষণীয়, 'খ' অঞ্চলের জনগণ সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে 'ক' অঞ্চলের শাসকগোষ্ঠী দ্বারা বৈষম্যের শিকার হয়। এরূপ বৈষম্যের অবসানকল্পে জনগণের বিভিন্নমুখী কর্মসূচিতে বাধা দিলে শেষ পর্যন্ত তাদের আন্দোলন গণআন্দোলনে রূপ নেয়, যা উপরে আলোচিত গণঅভ্যুত্থানের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তাই বলা যায়, 'খ' অঞ্চলের জনগণের আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মিল আছে।