1 Answers
উদ্দীপকে শাফিন আহম্মেদ টিস্যু কালচারের মাধ্যমে সাফল্য লাভ করেন। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে তার এই সাফল্য অর্থাৎ টিস্যু কালচার প্রযুক্তির গুরুত্ব অত্যধিক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির কৌশলকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদের প্রজননের ক্ষেত্রে এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উদ্ভিদাংশ থেকে কম সময়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা সৃষ্টি করা যায়। এতে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সমস্যা এড়ানো যায় বলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। প্রাকৃতিকভাবেও টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে লাভবান হওয়া যায়। অনেক উদ্ভিদ আছে যাদের প্রাকৃতিকভাবে জননের হার কম, টিস্যু কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে দ্রুত তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। এভাবে যে সকল উদ্ভিদ বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায়।
আবার বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে টিস্যু কালচার পদ্ধতির প্রয়োগ অনেক সাফল্য বয়ে আনতে পারে। যে সকল উদ্ভিদ বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেসবের দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি ও তার থেকে আহরিত দ্রব্য সমূহ রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। বাণিজ্যিক উদ্ভিদ যেমন- ডালজাতীয় শস্য, বাদাম, পাট ইত্যাদির দ্রুত উৎপাদনেও টিস্যু কালচার পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে। উপরোক্ত আলাচনা প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, টিস্যু কালচার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন করা সম্ভব।