1 Answers

"দৃশ্যকল্প-২-এর পণ্ডিত অর্থাৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্য সাহিত্যকে নবজীবন দান করেন"- উক্তিটি যথার্থ।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত সাহিত্য, ব্যাকরণ, ন্যায়, বেদান্ত, স্মৃতি, অলঙ্কার ইত্যাদি বিষয়ে অগাধ জ্ঞান অর্জন করেন। তিনি মাত্র একুশ বছর বয়সেই ইংরেজদের প্রতিষ্ঠিত ফোর্ট উইলিয়াম কলেজের পণ্ডিতের দায়িত্ব লাভ করেন। বাংলা গদ্য সাহিত্যকে নবজীবন দান করার কৃতিত্ব ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের। এজন্য তাকে বাংলা গদ্যসাহিত্যের জনক বলা হয়। শিশুদের লেখাপড়া সহজ করার জন্য তিনি রচনা করেন বর্ণপরিচয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ভাগ। সংস্কৃত ভাষা শিক্ষাকে সহজ করার জন্য তিন ব্যাকরণ বই রচনা করেন। এছাড়া তিনি অনেক গ্রন্থের অনুবাদ করেছেন। বিদ্যাসাগরের মাধ্যমে বাংলা গদ্যের প্রথম সূত্রপাত না ঘটলেও সর্বপ্রথম শিল্পসম্মত গদ্যরীতির প্রকাশ দেখতে পাওয়া যায় তার রচনায়। সংস্কৃত ভাষায় সুপণ্ডিত হওয়ার দরুণ তিনি তার সেই জ্ঞান বাংলা গদ্যরূপের মধ্যে আরোপ করে বাংলা গদ্যকে সমৃদ্ধ করেছেন। এ কারণেই বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের জনক বলা হয়।
দৃশ্যকল্প-২-এ উনিশ শতকের একজন সমাজ সংস্কারকের কথা বলা হয়েছে। যিনি আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে রাস্তার বাতির নিচে পড়াশোনা করেছেন। তিনি অল্প বয়সেই বিভিন্ন বিষয়ে পাণ্ডিত্য অর্জন করেন, যা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কর্মকাণ্ডের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
পরিশেষে বলা যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্য সাহিত্যকে নবজীবন দান করেছেন।

4 views

Related Questions