1 Answers
উক্ত শাসক তথা গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজিই ছিলেন খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। কেননা, শাসক হিসেবে তার মতো কৃতিত্ব আর কেউ দেখাতে পারেননি।
সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নিঃসন্দেহে খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ ছিলেন। তিনি শাসনকার্যের সুবিধার্থে রাজধানী দেবকোট হতে গৌড় বা লখনৌতিতে স্থানান্তর করেন। রাজধানীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করার জন্য বসনকোট নামক স্থানে তিনি একটি দুর্গ নির্মাণ করেন। লখনৌতি নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধা ছিল। তাছাড়া ইওজ খলজি বুঝতে পেরেছিলেন, শক্তিশালী নৌবাহিনী ছাড়া শুধু অশ্বারোহী বাহিনীর পক্ষে নদীমাতৃক বাংলায় রাজ্য সম্প্রসারণ সম্ভব হবে না। তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে রাজধানীর তিন পাশে গভীর ও প্রশস্ত পরিখা খনন করেন। এছাড়া তিনি তার রাজ্যকে রক্ষাকল্পে বহু খাল খনন ও সেতু নির্মাণ করেন। এমনিভাবে তিনি রাজ্য উন্নয়নে বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। রাজ্য উন্নয়নের পাশাপাশি তিনি শিল্প সাহিত্যের উন্নয়নেও বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি ছিলেন শিল্প ও সাহিত্যের একজন পৃষ্ঠপোষক। তারই পৃষ্ঠপোষকতায় গৌড়ের জুমা মসজিদ এবং আরো কয়েকটি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। তার আমলে মধ্য এশিয়া হতে বহু মুসলিম সুফি ও সৈয়দ তার দরবারে আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ সমস্ত সুফি ও সুধিগণ বঙ্গদেশে ইসলাম প্রচারে যথেষ্ট সহায়তা করেন। তাদের আগমন ও ইওজ খলজির পৃষ্ঠপোষকতায় লখনৌতি মুসলিম শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্রে পরিণত হয়।
উপরে উল্লিখিত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে বলা যায়, সুলতান গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি তার স্বীয় প্রতিভা ও কর্মদক্ষতার মাধ্যমেই শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছেন। রাজ্যের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে তার গৃহীত পদক্ষেপই তাকে অন্যান্য খলজি শাসকদের তুলনায় শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়েছে। তাই বলা যায়, গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজিই খলজি মালিকদের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ।