1 Answers
উদ্দীপকের তনিমা তার বইয়ে ভাষা, অর্থাৎ বাংলা ভাষা সৃষ্টির উৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরেছে।
বাংলার তথা প্রাচীন ভারতের অধিবাসীরা নানাভাষীর লোক ছিল। বাংলার প্রাচীনতম অধিবাসীরা সম্ভবত ছিল অস্ট্রিক গোষ্ঠীর অস্ট্রো এশিয়াটিক জাতির মানুষ। তাদের ভাষা ছিল অস্ট্রিক গোষ্ঠীর মোন, ক্ষের শাখার ভাষার মতোই। অস্ট্রিক গোষ্ঠী ছাড়াও বাংলায় বাস করত দ্রাবিড় গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখার লোক। অস্ট্রো এশিয়াটিক ও দ্রাবিড় ভাষার লোকেরা ছাড়াও পূর্ব ও উত্তর বাংলায় বহু আগে থেকে নানা সময়ে এসেছিল মঙ্গোলীয় বা ভোটচীনা গোষ্ঠীর নানা জাতি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর লোক। সম্ভবত এদেরই বলা হতো কিরাত জাতি। এরপর একটি নতুন ভাষাগোষ্ঠীর মানুষ বাংলায় প্রবেশ করে। তারা হলো আর্য এবং তাদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক। আর্য জাতি বাংলার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাথে পাশাপাশি বসবাস করত। ফলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিবাসীরা নিজেদের ভাষা ত্যাগ করে সম্পূর্ণভাবে আর্য ভাষা গ্রহণ করে। আর এভাবেই বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে বাংলা ভাষা সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, তনিমার বইয়ে উক্ত ভাষাও বিভিন্ন জাতির সমন্বয়ে সৃষ্ট এবং দেশের মানুষের আদরণীয় সৃষ্টি। বইটির উল্লিখিত ভাষাও এক দিনের ফসল নয়; বহু বছর, কাল পেরিয়ে আজ তা সমৃদ্ধ। উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, উদ্দীপকে তনিমা তার বইতে বাংলা ভাষা সৃষ্টির উৎপত্তির ইতিহাস তুলে ধরেছে।