1 Answers
উদ্দীপকে যে প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির পটভূমি রয়েছে, তা বড় ধরনের বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ সংঘটিত হওয়ার পরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পাঠ্যপুস্তকে দেখতে পাই, বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসে পৃথিবীজুড়ে দুটি বিশ্বযুদ্ধ ঘটে গেছে। গত শতাব্দীর প্রথমদিকে বিশ্বযুদ্ধ (১৯১৪- ১৯১৮) এবং ৪০-এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯-৪৫) সংঘটিত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে ১৯২০ সালের ১০ জানুয়ারি বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে 'লীগ অব নেশন্স' সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু 'লীগ অব নেশন্স' এর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অন্যান্য কারণে বিশ্বশান্তি বিধানে তা ব্যর্থ হয়। এ বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে আমরা উদ্দীপকের প্রতিষ্ঠানের মিল দেখতে পাই। ১৯৩৯ সালে পুনরায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা পৃথিবীকে গ্রাস করে। লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত ও আহত, গৃহহারা, পঙ্গুত্ব বরণ করে। প্রতিটি দেশ হারায় তাদের কর্মক্ষম যুব সম্প্রদায়কে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্ব বিবেককে ভীষণ আতঙ্কিত করে তোলে এবং নাড়া দেয়। এ প্রেক্ষাপটে বিশ্বের তৎকালীন নেতৃবৃন্দ বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা বিধানের জন্য তার একটি নতুন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠনের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেন। এরপর ১৯৪৩ সালে তেহরানে ও মস্কোতে ৪টি প্রধান শক্তির মধ্যে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ফ্রান্সের প্রতিনিধিবৃন্দ সম্মিলিত জাতিসংঘ গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অবশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ আত্মপ্রকাশ করে। উদ্দীপকে যে প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির পটভূমি রয়েছে তার সাথে পাঠ্যপুস্তকের জাতিসংঘ সৃষ্টির পটভূমির মিল রয়েছে।
পরিশেষে বলতে পারি, অনেক চড়াই, উত্তাই পেরিয়ে জাতিসংঘ বর্তমানে বিশ্বের শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছে।