1 Answers
উদ্দীপকে নির্দেশিত রাজবংশগুলো মূলত প্রথম সহস্রাব্দের বিভিন্ন শতকে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রাচীন পাল যুগের অধিকাংশ সময়েই দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা স্বাধীন ছিল। তখন এ অঞ্চলটি বঙ্গ জনপদের অংশ ছিল। খ্রিষ্টীয় অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে বেশ কয়েকটি রাজবংশের রাজা পাল রাজাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে স্বাধীনভাবে কিংবা অধীনতা স্বীকার করে শাসন করতেন। এরকম বিভিন্ন রাজবংশের মধ্যে ছিল খড়গ বংশ, দেব বংশ, কান্তিদেবের রাজ্য, চন্দ্র বংশ ও বর্ম বংশ। উদ্দীপকে এই রাজবংশগুলোর নামই উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে পাঁচটি রাজবংশের নাম ও প্রতিষ্ঠাকাল লক্ষ করা যায়। এসব রাজংবশের মধ্যে সর্বপ্রথম সপ্তম শতকের দ্বিতীয়ার্ধে মগধ ও গৌড়ে পরবর্তী গুপ্তবংশীয় রাজারা প্রভুত্ব স্থাপন করেন। খড়গদের অধিকার বিস্তৃত ছিল ত্রিপুরা ও নোয়াখালি অঞ্চলের ওপর। এরপর একই অঞ্চলে অষ্টম শতকের শুরুতে দেব বংশের উত্থান ঘটে। দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার হরিকেল জনপদে নবম শতকে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। এটি কান্তিদেবের রাজ্য নামে পরিচিত। দশম শতকের শুরু থেকে এগারো বর্তমান নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানেও তিনি একটি বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। চিত্রে এ বিহারকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
উদ্দীপকে প্রদর্শিত চিত্রের নিদর্শনটি হলো সোমপুর বিহার। আর এ বিহারটি নির্মাণ করেছিলেন পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক ধর্মপাল। তাই বলা যায়, প্রদর্শিত চিত্রের নিদর্শনটি ধর্মপালের সময়কালকে ইঙ্গিত করে।