উদ্দীপকে বাংলার কোন শক্তিশালী ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশ সম্পর্কে বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা করো। (প্রয়োগ)
1 Answers
উদ্দীপকে প্রাচীন বাংলার শক্তিশালী ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশ 'চন্দ্র বংশ' সম্পর্কে বলা হয়েছে।
দশম শতকের শুরু থেকে একাদশ শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ বছর চন্দ্র বংশের রাজারা শাসন করেন। চন্দ্র বংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ও তার ছেলে সুবর্ণচন্দ্র সম্ভবত রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন। সুবর্ণচন্দ্রের ছেলে ত্রৈলোক্যচন্দ্র এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'। ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ, বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন পুত্র শ্রীচন্দ্র। তার শাসনামলে চন্দ্র বংশের প্রতিপত্তি উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছায়। তার রাজ্য দক্ষিণ- পূর্ব বাংলা ছাড়াও উত্তর-পূর্ব কামরূপ ও উত্তরে গৌড় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। শ্রীচন্দ্রের পুত্র কল্যাণচন্দ্র ও পৌত্র লডহচন্দ্র এ বংশের গৌরব অক্ষুণ্ণ রেখেছিলেন। তবে লডহচন্দ্রের পুত্র গোবিন্দচন্দ্রের সময়ে চোল ও কলচুরিরাজের আক্রমনে এ বংশের পতন ঘটে।
উদ্দীপকের তমাল বই পড়ে প্রাচীন এক রাজবংশ সম্পর্কে জানতে পারে যারা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার সবচেয়ে শক্তিশালী রাজবংশ ছিল। প্রায় ১৫০ বছর এ বংশ শাসন করলেও একাদশ শতকের শেষভাগে এ রাজবংশের পতন ঘটে। ঠিক একইভাবে উপরে আলোচিত চন্দ্ররাজবংশ দেড়শত বছর শাসন করেছিল এবং একাদশ শতকের শেষের দিকে এ বংশের পতন ঘটে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে শক্তিশালী ক্ষুদ্র স্বাধীন রাজবংশ 'চন্দ্র বংশ' সম্পর্কে বলা হয়েছে।