1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত উপাদান তথা শিল্পায়ন ও নগরায়ণ সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় প্রভাবই লক্ষ করা যায়।
শিল্পায়নের ইতিবাচক দিকগুলো হলো- শিল্পায়নের ফলে আমাদের সমাজজীবনে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব হয়েছে। এদেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অধিকহারে উৎপাদন বৃদ্ধি, মাথাপিছু আয় ও জাতীয় আয় বৃদ্ধির মূলে রয়েছে শিল্পায়ন। তাছাড়া শিল্পায়নের ফলে শিল্পের স্থানীয়করণ প্রক্রিয়ায় সূচনা হয়েছে; যা নগরায়ণের সৃষ্টি করেছে। শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটেছে। এতে ভৌগোলিক দূরত্ব কমে গেলেও সামাজিক দূরত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে। পুরুষ, মহিলা এক সাথে কাজ করছে। শিল্প শ্রমিকেরা অধিকাংশ সময় কাটায় সহকর্মীদের সাথে। কর্মক্ষেত্রে প্রাত্যহিক জীবনের প্রভাব ব্যক্তির সমগ্র জীবনধারাকে প্রভাবিত করে। শিল্পায়নের নেতিবাচক প্রভাবগুলো হলো- শিল্পনগরীর বাসস্থান স্বল্পতা, স্বল্প মজুরি ইত্যাদি কারণে পরিবারের সব সদস্যদের নিয়ে একসাথে বসবাস করা সম্ভব হয় না। ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারের সৃষ্টি হয়েছে। আবার বিবাহবিচ্ছেদ, শিশু-কিশোরদের সুষ্ঠু সামাজিকীকরণে সমস্যা, প্রবীণদের নিরাপত্তাহীনতা, অপরাধ প্রবণতাসহ বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দিয়েছে। আমাদের দেশের শহরে বস্তির উদ্ভব এ শিল্পায়নের ফসল। এসব বস্তিগুলো সামাজিক জীবনে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, অপরাধ, কিশোর অপরাধের মতো বহু সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এসব সমস্যা আবার অন্যান্য সমস্যার সৃষ্টি করেছে, যা নগর জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে। তাই বলা যায়, শিল্পায়ন শহর অর্থনীতিতে একদিকে যেমন আশীর্বাদ অন্যদিকে অভিশাপও।