1 Answers
পাঠ্যপুস্তকে শ্রীশঙ্করাচার্যের জীবনী থেকে আমরা জানতে পারি, তিনি তাঁর মাকে ভীষণ ভালোবাসতেন। টোলের ছাত্রদের পড়ানোর অবসরে যে সময়টুকু পেতেন সে সময়টুকুর পুরোটাই মায়ের সেবায় কাজ করতেন। কিন্তু মৃত্যুর কথা শুনে তাঁর ভিতরে এক বিরাট পরিবর্তন আসে। জীবন ও জগৎ সম্পর্কে তিনি নতুন করে ভাবতে লাগলেন। তিনি ভাবলেন মোক্ষলাভই মানুষের চরম লক্ষ্য। তাই ব্রহ্ম সাধনায় তিনি বাকি জীবন কাটিয়ে দিবেন। এ অনুভূতিতে একদিন শঙ্কর তাঁর মাকে তাঁর মনের কথা খুলে বলেন। কিন্তু মা কিছুতেই রাজি হন না। অবশেষে শঙ্কর অনেক বুঝিয়ে মাকে রাজি করালেন। তিনি এও বললেন, যেখানেই থাকেন না কেন, মায়ের অন্তিম সময়ে তিনি পাশে উপস্থিত থাকবেন। তারপর একদিন তার মনে সারা দিল যে, মায়ের অন্তিম সময় আর বেশি দূরে নয়। সাথে সাথে তিনি চলে আসেন মায়ের কাছে। মায়ের অন্তিম সময়ে শঙ্কর পাশে থেকে তার পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সেবা করেছেন। যার মাধ্যমে গভীর মাতৃভক্তির পরিচয় পাওয়া যায়। উদ্দীপকেও আমরা দেখতে পাই সুভাশীষ বাবু তার মাকে খুব ভালোবাসতেন। তিনি একদিন তার সন্ন্যাস জীবনের কথা বললে মা তাকে বাধা দেন। তারপর তিনি মাকে বুঝিয়ে এবং অন্তিম সময়ে মায়ের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সন্ন্যাসে চলে যান। পরবর্তীতে মায়ের অন্তিম সময়ে মায়ের পাশে থেকে সেবা করেছেন।
উপরিউক্ত আলোচনায় আমরা দেখি শ্রীশঙ্করাচার্য ও সুভাশীষ বাবু উভয়েরই মধ্যে ছিল মাতৃভক্তি অত্যন্ত প্রকট। তাই একথা আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি, শ্রীশঙ্করাচার্যের মতো সুভাশীষ বাবুও ছিলেন মাতৃভক্ত একথাটি সঠিক ও যুক্তিযুক্ত।