1 Answers
নিখিল বাবুর মধ্যে শ্রীমার স্বাস্থ্যসচেতনতা ও সংস্কৃতিমনা গুণটি লক্ষ করা যায়।
শ্রীমা একজন মহিয়সী নারী। স্বপ্নে প্রাপ্ত আদেশ অনুযায়ী তিনি মহাপুরুষ অরবিন্দের সান্নিধ্যে এসেছিলেন। তিনি যেমন ছিলেন শারীরিক, সুস্থতার ব্যাপারে সচেতন তেমন ছিলেন সংস্কৃতিমনা। উদ্দীপকের নিখিল বাবুর মাঝেও শ্রীমার উক্ত গুণাবলির উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। তার প্রতিদিন বিকালে এক ঘণ্টা করে হাঁটা এবং ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার ব্যাপারে সচেতনতা উক্ত দুটি গুণকেই নির্দেশ করে। আশ্রমের দায়িত্ব শ্রীমার ওপর পড়ার পর শ্রীমাও অতিশয় যোগ্যতার সঙ্গে সকলের ভরণ-পোষণ করে যেতে লাগলেন। কর্মফলের প্রতি সমস্ত আসক্তি ত্যাগ করে তিনি পরের মঙ্গলের জন্য কাজ করে যেতে লাগলেন। খাদ্য, কৃষি, শিল্প, গো-পালন প্রভৃতি বিভাগ খুলে শ্রীমা আশ্রমটিকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রতিষ্ঠানরূপে গড়ে তুললেন। শ্রীমা বুঝতে পেরেছিলেন যে, আধ্যাত্মিক সাধনা করতে হলে শরীরকে সুস্থ রাখতে হয়। এজন্য যোগব্যায়াম প্রয়োজন। তাই আশ্রমে তিনি একটি ব্যায়ামাগার গড়ে তোলেন। শ্রীঅরবিন্দের পরিকল্পনা অনুযায়ী শ্রীমা আশ্রমে একটি ছোট্ট পাঠশালা খোলেন। সেখানে ছেলে-মেয়েরা মনের আনন্দে লেখাপড়া করত। ক্রমে পাঠশালা থেকে বিদ্যালয় ও পরে তা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত হয়। তার নাম হয় 'আন্তর্জাতিক শিল্পকেন্দ্র'। এখানে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় শিক্ষা দেওয়া হয়। তবে সবাইকে আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করে তোলা হয়। শ্রীমা এখানে ধর্ম ও কলাবিদ্যার এক সার্থক সমন্বয় সাধন করেছিলেন। এখানে বিশ্বের যেকোনো শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতে পারে। অতএব বলা যায়, নিখিল বাবুর মধ্যে শ্রীমার উক্ত গুণসমূহই লক্ষ করা যায়।