1 Answers
উদ্দীপকের বিষয়গুলো ছাড়াও ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আরও কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে।
ধনতন্ত্রে ভোক্তার স্বাধীনতা বিদ্যমান। ভোগকারী কোন দ্রব্য কী পরিমাণে ক্রয় ও ভোগ করবে এ বিষয়ে সে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তবে তার পছন্দ, আয় ও দ্রব্যের বাজার মূল্যের দ্বারা তার এ সিদ্ধান্ত প্রভাবিত হয়। ধনতান্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যেই উৎপাদন প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়। যেসব দ্রব্যের ক্ষেত্রে মুনাফার সম্ভাবনা বেশি উৎপাদনকারীরা সেসব দ্রব্যেই বেশি বিনিয়োগ করে। সর্বাধিক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্য থাকে বিধায় উদ্যোক্তা/পুঁজিপতিরা দ্রব্যের উৎপাদন ব্যয় কম রাখতে ও বেশি মূল্য পেতে চেষ্টা করে। উৎপাদন ব্যয় কম রাখার জন্য শ্রমিককে তার ন্যায্য মজুরির চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়। এ উদ্বৃত্ত মজুরি পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তার কাছে মুনাফা হিসেবে সঞ্চিত হয়। এভাবে উৎপাদিত সম্পদ বণ্টনে অসমতা ও বৈষম্য সৃষ্টি হয়। শ্রমিক প্রাপ্যের চেয়েও কম মজুরি পায় আর পুঁজিপতি ও উদ্যোক্তা তাদের প্রাপ্যের চেয়ে বেশি অর্থ উপার্জন করে। যেহেতু পুঁজিপতির সংখ্যা কম, তাই একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীর হাতেই সমাজের অধিকাংশ সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়। আর যেহেতু শ্রমিক অগণিত, তাই সমাজের বিশাল জনগোষ্ঠী মোট সম্পদের ক্ষুদ্র অংশের মালিকানা পায়।
ধনতান্ত্রিক অর্থব্যবস্থায় উপরিউক্ত বৈশিষ্ট্যসমূহই পরিলক্ষিত হয়।