1 Answers
উক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা তথা মিশ্র অর্থব্যবস্থায় আয় বণ্টনের ক্ষেত্রেও এর স্বকীয় বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। এখানে ব্যক্তিমালিকানার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি বড় অংশ যেমন- বড় বড় কলকারখানা, ভারী শিল্প, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, সামরিক ও নিরাপত্তা সরঞ্জামের উৎপাদন ও বিপণন এবং আমদানি-রপ্তানি সরকার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। অর্থনীতিতে ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ সম্পূর্ণরূপে মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। এক্ষেত্রে ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থার মতোই শ্রমিককে প্রাপ্য মজুরির চাইতে কম দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত মুনাফা হিসেবে মালিক পায়। ফলে উৎপাদিত সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন হয় না। উৎপাদনের আয়ে বৈষম্য দেখা দেয়। সমাজের সর্বাধিক কল্যাণ নিশ্চিত হয় না। আর যে অংশটি সরকারের মালিকানায় থাকে, তা সর্বাধিক সামাজিক কল্যাণের লক্ষ্যে পরিচালিত হয়। এ খাতে শ্রমিকেরা সাধারণ ন্যায্য মজুরি পায়। ফলে সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টন ঘটে। এভাবে মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আয় বণ্টন প্রক্রিয়াটিতে আংশিক সুষ্ঠু বণ্টন ঘটে। আর অংশবিশেষে শ্রমিক শোষিত ও বঞ্চিত হয় এবং আয়বৈষম্য দেখা যায়। সরকার যদি নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে তবে এরূপ বৈষম্য হ্রাসের সুযোগ বিদ্যমান। এ পদ্ধতিটি ধনতান্ত্রিক বা সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার চাইতে অধিক গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর বলে আমি মনে করি।