1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত শাসনব্যবস্থাটি হলো গণতন্ত্র। সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় শাসনব্যবস্থা হলেও এর বেশকিছু ত্রুটি বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন হিসেবে গণতন্ত্রে অনেক সময় নির্বাচনের মাধ্যমে অজ্ঞ, অযোগ্য ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে পারে। ফলে উপযুক্ত লোকের অভাবে গণতন্ত্রের উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না • এবং শাসনকার্য পরিচালনায় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। বাস্তবে গণতন্ত্র সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসনে পরিণত হয়। সংখ্যালঘুরা আইনসভায় তাদের প্রতিনিধি প্রেরণ করতে পারে না। ফলে তাদের অভাব অভিযোগ সম্পর্কে সরকার উদাসীন থাকতে পারে। গণতন্ত্রে বহু পরস্পরবিরোধী মত ও ধারণা দেখা যায়। এতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতপার্থক্য ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয় এবং জাতীয় সংহতি বিনষ্ট হতে পারে। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে জাতি দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে এবং গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়ে। গণতন্ত্র তুলনামূলক ব্যয়বহুল শাসনব্যবস্থা। ঘন ঘন নির্বাচনের ব্যবস্থা, জনমত গঠন, ব্যাপক প্রচারকার্য ইত্যাদিকে কেন্দ্র করে, সরকার, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রচুর অর্থ ব্যয় করতে হয়।
উদ্দীপকের এমনি ঘটনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে 'গ' এলাকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে উক্ত প্রতিনিধি তার নিজ এলাকায় থাকেন না এবং কোনো বিপদাপদে এলাকাবাসী তাকে কাছে পান না। অর্থাৎ তিনি স্বার্থপরের মতো এলাকাবাসীর কথা চিন্তা না করে নিজেকেই নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। তাই অযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রের ত্রুটিকেই নির্দেশ করছে।
পরিশেষে আমি মনে করি, অযোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হওয়া গণতন্ত্রের পক্ষে একটি বিরাট বাধা।