1 Answers
দৃশ্যকল্প-২-এ বিতর্কের আলোচ্য বিষয়টি হলো- 'আইনের অনুশাসনই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে।' আমিও মনে করি বিষয়টি যৌক্তিক।
সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আইনের অনুশাসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রে আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে সকল নাগরিক সমানভাবে স্বাধীনতা ও রাষ্ট্র প্রদত্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারে। কেউ কারও অধিকার ক্ষুণ্ণ করতে পারে না। সাধারণভাবে আইন বলতে সামাজিকভাবে স্বীকৃত লিখিত ও অলিখিত বিধিবিধান ও রীতিনীতিকে বোঝায়। উড্রো উইলসনের মতে, "আইন হলো সমাজের সেইসকল প্রতিষ্ঠিত প্রথা ও রীতিনীতি যেগুলো সমাজ ও রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত এবং যা সরকারের অধিকার ও ক্ষমতার দ্বারা বলবৎ করা হয়।" আইনের অনুশাসন সাধারণভাবে দু'টি ধারণা প্রকাশ করে। যথা- (ক) আইনের প্রাধান্য এবং (খ) আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য। আইনের প্রাধান্য নাগরিক স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। সমাজে আইনের প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হলে কেউ আইন অমান্য করে অন্যের অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। আইনের প্রাধান্য বজায় থাকলে সরকার স্বেচ্ছাচারী হতে পারে না এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করতে সচরাচর সাহস করে না। বিনা অপরাধে কাউকে গ্রেফতার করা, বিনা বিচারে কাউকে আটক রাখা ও শাস্তি দেওয়া প্রভৃতি আইনের প্রাধান্যের পরিপন্থি। সরকার কারও ব্যক্তিস্বাধীনতায় অযৌক্তিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে সাহস পাবে না যদি আইনের প্রাধান্য বিরাজমান থাকে। আর আইনের দৃষ্টিতে সকলের সাম্য বলতে বুঝায় সমাজে ধনী-দরিদ্র, সবল-দুর্বল, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলেই সমান। আইনের চোখে কেউ বাড়তি সুবিধা পাবে না। সকলের জন্য একই আইন প্রযোজ্য। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা আইনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য আবশ্যক। 'আইনের শাসনের অভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় নাগরিকদের বিনা অপরাধে আটক রেখে হয়রানি করে। রাষ্ট্রে ব্যক্তিস্বাধীনতা তখনই খর্ব হয় যখন আইনের অনুশাসন থাকে না। সুতরাং, 'আইনের অনুশাসনই সুশাসন প্রতিষ্ঠা করে'- বক্তব্যটি পুরোপুরি যথার্থ ও যৌক্তিক।