1 Answers

পাল যুগে বৌদ্ধধর্ম প্রচার-প্রসারে পাল রাজাদের অবদান বর্ণনা করা হলো:

পাল যুগের প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠিত বিহারের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তদন্তপুরী বিহার, বিক্রমশীল বিহার, সোমপুরী বিহার, পণ্ডিত বিহার ও জগদ্দল বিহার। রাজা মহীপাল সারনাথ ও বুদ্ধগয়া অঞ্চলে অনেক বিহার সংস্কার করেন এবং নতুন বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।

এ সময় বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান নানাবিধ বিষয়ে প্রায় দুইশ'টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। তিনি তিব্বত রাজার আমন্ত্রণে বৌদ্ধধর্ম প্রচারের জন্য তিব্বতে গিয়েছিলেন। তিনি কুসংস্কারাচ্ছন্ন তিব্বতবাসীকে বুদ্ধের অমৃত বাণী ভাষণ করে ধর্মপথে পরিচালিত করেন। ধর্মপালের সময় নালন্দা মহাবিহার সবচেয়ে বেশি সমৃদ্ধি লাভ করে। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মহাবিহারসমূহের গৌরব বহির্বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছিল। বিহারসমূহে তিব্বত ও চীন থেকে বহু বৌদ্ধ ভিক্ষু ও শ্রমণ শিক্ষালাভ করতে আসতেন। বিহারগুলো অসংখ্য খ্যাতিমান বৌদ্ধ পণ্ডিতের বিচরণক্ষেত্র ছিল। তিব্বতি ও ভারতীয় পণ্ডিতরা বিহারগুলোতে বসবাস করে বৌদ্ধগ্রন্থ অনুবাদ করে তিব্বত, কাশ্মীর, নেপাল ও চীন প্রভৃতি দেশে নিয়ে যেতেন।

পাল যুগে বাংলা ভাষার উন্মেষ হয়। বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদ বা বৌদ্ধ গান ও দোহা এ সময় রচিত হয়েছিল। এগুলোর রচনাকাল অষ্টম থেকে একাদশ শতাব্দী বলে অনুমান করা হয়। পাল যুগে বৌদ্ধ স্থাপত্য ও শিল্পকলা প্রভূত সমৃদ্ধি লাভ করেছিল। পাল যুগে বাংলার বিভিন্ন ধর্ম ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সম্মিলিতভাবে বিকাশ লাভ করেছিল।

5 views

Related Questions