উক্ত বৌদ্ধভিক্ষুর খ্যাতির কারণে বাঙালিরা আজও গর্ববোধ করে- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
ভিক্ষু শীলভদ্রের খ্যাতির কারণে বাঙালিরা আজও গর্ববোধ করে।
বৌদ্ধভিক্ষু হওয়ার পর শীলভদ্র গভীর সাধনা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি বৌদ্ধধর্মের সারমর্ম অধিগত করেন এবং শাস্ত্রের দুরূহ তত্ত্বের সরল ব্যাখ্যা প্রদানে পারদর্শিতা অর্জন করেন। শীলভদ্র আচার্যের কাছ থেকে ধর্ম দর্শনের নিগূঢ় তত্ত্বের নির্যাসটুকু নিয়েই ক্ষান্ত হতেন না, তত্ত্বের গভীরে গিয়ে ধ্রুব সত্যে না পৌঁছা পর্যন্ত তিনি প্রশ্ন করে যেতেন। এভাবে তিনি জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত ও স্বচ্ছ করেন এবং বহু বিষয়ে পারদর্শিতা অর্জন করেন। শীলভদ্র নালন্দায় অবস্থানকালে দক্ষিণ ভারতের এক পণ্ডিত মগধরাজ্যে উপস্থিত হয়ে তার সমকক্ষ তাত্ত্বিক পণ্ডিত নেই বলে দাবি করেন এবং নিজের মাহাত্ম্য প্রচার করতে থাকেন। তিনি ধর্মবিষয়ক তর্কযুদ্ধে মগধের পণ্ডিতদের আহ্বান করেন। এই তর্কযুদ্ধে শীলভদ্র তাত্ত্বিক পণ্ডিতকে পরাজিত করেন।
শীলভদ্রের পান্ডিত্যের ব্যাপ্তি ছড়িয়ে পড়ে চতুর্দিকে। মগধরাজ সন্তুষ্ট হয়ে শ্রদ্ধার্ঘ্যস্বরূপ একটি নগরের রাজস্ব স্থায়ী বৃত্তিরূপে তাকে প্রদান করেন। কিন্তু শীলভদ্র এটি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, বৌদ্ধ ভিক্ষুর পরিধেয় ত্রিচীবরই যথেষ্ট। পরে রাজার বিশেষ অনুরোধে তিনি সেই নগর গ্রহণ করে সেখানে একটি সংঘারাম প্রতিষ্ঠা করেন। এই বিহারের নামকরণ করা হয় 'শীলভদ্র সংঘারাম বিহার।' সংঘারামের সকল ভিক্ষু-শ্রমণ মহাস্থবির শীলভদ্রের প্রতি বিনীত শ্রদ্ধায় তাঁকে 'সদ্ধর্ম ভাণ্ডার' বলে সম্ভাষণ করতেন।
প্রকৃতপক্ষে মহাস্থবির শীলভদ্রের সমসাময়িককালে তিনি ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ বৌদ্ধ আচার্য। সর্ববিদ্যায় পারদর্শী ও পণ্ডিত হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। শীলভদ্রই প্রথম বাঙালি যিনি নালন্দা মহাবিহারে এই খ্যাতি অর্জনে সমর্থ হয়েছিলেন। সে গৌরবে আজও বাঙালিরা গর্ববোধ করে।