1 Answers
বুদ্ধবাণী গ্রন্থাকারে সংকলনে সঙ্গীতির ভূমিকা অনস্বীকার্য ।
কৃষ্ণ বিভিন্ন সম্মানে বিভিন্ন উপলক্ষে যেসব ধর্মোপদেশ দিতেন বুদ্ধশিষ্যগণ তা স্মৃতিতে ধারণ করে রাখতেন এবং মুখে-মুখে প্রচার করতেন। বুদ্ধের মহাপরিনির্বাণের তিন মাস পর প্রথম সঙ্গীতিতে বিভিন্ন ভিক্ষু কর্তৃক স্মৃতিতে ধারণকৃত বুদ্ধের উপদেশসমূহ প্রথম সংকলন করে একত্র করা হয়। কালক্রমে এগুলোই বর্তমানকালের ত্রিপিটকের রূপ পরিগ্রহ করে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়। নানা কারণে মুখে-মুখে প্রচারিত যে কোনো বিষয় বিকৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তন্মধ্যে অন্যতম কারণসমূহ হচ্ছে: ১. অন্যভাষার প্রভাব, ২. একাধিক ভাষাভাষী লোকের সহাবস্থান ৩. উচ্চারণের দুর্বলতা, ৪. বোঝার দুর্বলতা এবং ৫. ব্যাখ্যা করার দুর্বলতা। কণ্ঠস্থ বা স্মৃতিতে ধারণ করে মুখে-মুখে প্রচারিত হওয়ার কারণে বুদ্ধবাণীর ক্ষেত্রেও বিকৃতি ব অর্থান্তর হওয়ার আশঙ্কা ছিল। দ্বিতীয় সঙ্গীতির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে তার প্রমাণ পাওয়া যায়। বুদ্ধের পরিনির্বাণের একশো বছরের মধ্যে বিনয়ের কতিপয় বিধিবিধানের ব্যাখ্যা নিয়ে প্রথম সঙ্ঘে বিবাদ সৃষ্টি হয়। ফলস্বরূপ সঙ্ঘ প্রথম দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে। তখন দ্বিতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় প্রথম সঙ্গীতিতে সংকলিত বুদ্ধবাণী আবৃত্তি ও সংকলিত করে বিশুদ্ধতা রক্ষা করা হয়। দ্বিতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠানের একশো বছরের মধ্যে বৌদ্ধসঙ্ঘ আঠারো নিকায়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে। প্রতিটি নিকায়ের ভিক্ষুগণ নিজেদেরকে প্রকৃত বুদ্ধবাণীর ধারক-বাহক হিসেবে প্রচার করতেন। তাছাড়া, সম্রাট অশোকের রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের লাভ-সৎকার বেড়ে গেলে অন্যান্য সম্প্রদায়ের অনেক তীর্থিক বা সন্ন্যাসী মস্তক মুণ্ডন ও পাত্র চীবর ধারণ করে ভিক্ষু হিসেবে পরিচয় দিতে থাকেন। তাঁরা ধর্মকে অধর্ম এবং অধর্মকে ধর্ম বলে প্রচার করতেন। ফলে কোনটি প্রকৃত বুদ্ধবাণী তা নির্ধারণ করা দুষ্কর হয়ে পড়ে। এরূপ পরিস্থিতিতে তৃতীয় সঙ্গীতি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় প্রকৃত বুদ্ধবাণী সংকলন করা হয়।