1 Answers
বেদ ঈশ্বরের বাণী। ঋষি মনু বলেছেন- 'বেদঃ অখিলধর্মমূলম' – অর্থাৎ বেদ হচ্ছে সকল ধর্মের মূল। এখানে সত্য ও জ্ঞানের নানা বিষয়ের বর্ণনা রয়েছে। বেদকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা-
১. ঋগ্বেদ-সংহিতা : ঋক্ শব্দের অর্থ স্তুতি। ঋগুলোকে মন্ত্রও বলা হয়। সমস্ত ঋগ্বেদে এ রকম ১০, ৪৭২টি ঋক্ বা মন্ত্র রয়েছে।
২. যজুর্বেদ-সংহিতা : যজুঃ মানে যজ্ঞের মন্ত্র। প্রাচীনকালের ঋষিরা বেদ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ করে তা আবৃত্তি করে ধর্মানুষ্ঠান বা যাগযজ্ঞ করতেন।
৩. সামবেদ-সংহিতা: 'সাম' শব্দের অর্থ গান। যজ্ঞ করার সময় কোনো কোনো ঋক বা মন্ত্র সুর করে গাওয়া হতো। এরূপ মন্ত্রগুলোকে বলা হয় সাম। সামবেদ সংহিতায় মন্ত্রসংখ্যা ১৮১০টি।
৪. অথর্ববেদ সংহিতা : বেদের চতুর্থ ভাগ হচ্ছে অথর্ববেদ। অথর্ববেদ সংহিতা আধ্যাত্মিক ও জাগতিক নানা প্রকার জ্ঞানের সংগ্রহ। অথর্ববেদের প্রাচীন নাম অথর্বাঙ্গিরস। অথর্ব বলতে ভেষজবিদ্যা, শান্তি, পুষ্টি প্রভৃতি মঙ্গলক্রিয়া বোঝায়। প্রাচীনকালের চিকিৎসা পদ্ধতি আদি পরিচায়ক হিসেবে অথর্ববেদ বিখ্যাত।
তাই বলা যায়, বেদ হিন্দুধর্মের এমন একটি ধর্মগ্রন্থ যাতে একটি মানুষের পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান লিপিবদ্ধ আছে।