1 Answers

হিন্দুধর্মের বিকাশমান বৈশিষ্ট্যের তিনটি স্তরের মধ্যে প্রথমে আসে বৈদিক যুগ। বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে দেবগণের উদ্দেশ্যে যাগযজ্ঞ করে অভীষ্ট লাভের প্রার্থনা করা হতো বৈদিক যুগে। যাগযজ্ঞের অনুশীলন করে আর্যগণ দুটি বস্তুর প্রতি প্রার্থনা জানাতেন শ্রী ও ধী। শ্রী অর্থাৎ ধন-ধান্য, বল-বিক্রম, যশ ইত্যাদি পার্থিব কাম্যবস্তু। আর ধী হচ্ছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা। এ দুটি চিন্তাধারার মধ্য দিয়েই হিন্দুধর্মের মূল তত্ত্বটি প্রকটিত হয়েছে। বৈদিক যুগের ঋষিদের ধর্মীয় চিন্তাচেতনায় জাগতিক ও পরমার্থিক উভয়বিধ কল্যাণ অর্জনের উদ্দেশ্য ছিল। বৈদিক যুগে ঋষিগণ ছিলেন সুখবাদী, জীবনবাদী। বৈদিক যুগের প্রার্থনায় দেখা যায় জীবনে সমৃদ্ধি, জীবের প্রতি স্নেহপ্রীতি এবং জগতের শান্তি কামনা। একে ঈশ্বরবাদ বলা হয়। এ যুগের জ্ঞানপ্রধান উপনিষদ ও দার্শনিক চিন্তার পর্যায়ে এসে তৎকালীন ঋষিগণ উপলব্ধি করেন, মোক্ষলাভই জীবনের উদ্দেশ্য এবং এ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কাম্যকর্ম পরিত্যাগ করে সন্ন্যাসধর্ম গ্রহণ করতে হবে। এ স্তরে মুক্তিলাভের পথপ্রদর্শক হিসেবে বহু উপনিষদ গ্রন্থ রচনা হয়। বৈদিক যুগের ধর্মচিন্তায় কাম্যকর্ম মোক্ষদায়ক নয়। তাই বেদান্তের ব্রহ্মচিন্তা হিন্দুধর্মের চিন্তাজগতে এক পরিবর্তন আনয়ন করে। এভাবে সনাতন ধর্মের দুটি শাখা গড়ে ওঠে- একটি কর্মমার্গ এবং অপরটি জ্ঞানমার্গ।

5 views

Related Questions