1 Answers
অসিতের বাবার মৃত্যুর পর সে যে সাড়ম্বরে বাবার শ্রাদ্ধ করবে তেমন অর্থ তার হাতে না থাকলেও শ্রদ্ধাপূর্বক শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করায় তা যথার্থ হয়েছে বলা যায়। শ্রদ্ধা শব্দের সাথে 'অন' প্রত্যয়যোগে শ্রাদ্ধ শব্দ গঠিত হয়। তাই শ্রদ্ধার সাথে যা দান করা হয় তাই শ্রাদ্ধ। শাস্ত্রমতে, অশৌচ পালন করে শরীরকে শ্রাদ্ধের জন্য উপযোগী করে তুলতে হয়। এ সময় মাছ, মাংস, ডিম পরিহার করে ফলমূল খেতে হয়। বড় পুত্র আদ্যশ্রাদ্ধের অধিকারী হলেও শ্রাদ্ধের দিন প্রত্যেক পুত্রকেই কিছু না কিছু দান করতে হয়। তবে সে দান যদি শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য হয় তবে শ্রাদ্ধের উদ্দেশ্য সফল হবে না। অনেক সময় দেখা যায়, লোক দেখানোর জন্য অনেকে প্রচুর টাকাপয়সা খরচ করে শ্রাদ্ধ করে। এ রকম শ্রাদ্ধ ঈশ্বরের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। আবার অনেক সময় টাকাপয়সা খরচ করার ভয়ে শ্রাদ্ধ পালনে অনীহা দেখা যায় বা মনে অশ্রদ্ধা আসে। এ রকম করা যাবে না। শাস্ত্রে ছয়, আট, ষোল দানের কথা উল্লেখ আছে। তবে অশ্রদ্ধার সাথে ষোল দান করলেও শ্রাদ্ধ হবে না। কিন্তু শ্রদ্ধার সাথে ছয় দান করলেই সেটা গ্রহণযোগ্য হবে। তাই শ্রদ্ধার সাথে মৃত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে আসন, ছাতা, পাদুকা, বস্ত্র, অন্ন, জল, তাম্বুল, মালা, বিছানা উৎসর্গ করতে হবে। পরিশেষে বলা যায়, সাড়ম্বরে পালন করতে না পারলেও শ্রদ্ধার সাথে পালন করায় অসিতের বাবার শ্রাদ্ধানুষ্ঠান যথাযথভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তাই প্রশ্নের উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।