1 Answers

উদ্দীপকের সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। 

৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত কর্মসূচি এবং আহ্বানের প্রতি সকল স্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়। পূর্ব বাংলার সকল অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পূর্ব পাকিস্তানের অবস্থা বেগতিক দেখে ইয়াহিয়া খান ঢাকায় আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে আলোচনা করতে। এসময় ভুট্টোও ঢাকায় আসেন। অপরদিকে, গোপনে আলোচনার নামে কালক্ষেপণ, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সৈন্য, গোলাবারুদ এনে পূর্ব বাংলায় সামরিক প্রস্তুতি গ্রহণ করে। ১৭ মার্চ টিক্কা খান, রাও ফরমান আলী 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে। ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরতম গণহত্যা, 'অপারেশন সার্চলাইট' শুরু হয়। ইয়াহিয়া ও ভুট্টো ২৫ মার্চ গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন। ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। হত্যা করে বহু মানুষকে। পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকায় রাজারবাগ পুলিশ ক্যাম্প, পিলখানা বিডিআর ক্যাম্প, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আক্রমণ চালায় এবং নৃশংস গণহত্যা সংঘটিত করে, যা ইতিহাসে '২৫ মার্চের কালরাত্রি' নামে পরিচিত। ২৫ মার্চের কালরাত্রিতেই অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে রাত ১টা ৩০ মিনিটে (মধ্যরাতে) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে গোপনে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়। অতএব এ বিষয়টি স্পষ্ট, রওনকের বর্ণনার সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক যাত্রার মিল রয়েছে।

5 views

Related Questions