1 Answers
শিলার জীবনের নির্দিষ্ট দিনের অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানটি হলো তার বিবাহ। হিন্দুসমাজে বিবাহ হলো ধর্মীয় জীবনের চর্চা। বিবাহের ফলে পুরুষকে স্ত্রীর ভরণ-পোষণ এবং মানসম্ভ্রম রক্ষার সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। বর্তমান সমাজে ব্রাহ্মবিবাহ প্রচলিত। কন্যাকে বস্ত্র দ্বারা আচ্ছাদন করে এবং অলঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করে বিদ্বান ও সদাচারী বরকে আমন্ত্রণ করে কন্যা দান- করাকে বলা হয় ব্রাহ্মবিবাহ। উদ্দীপকে দেখা যায়, প্রণয় বাবু তার কন্যা শিলাকে নতুন কাপড় ও স্বর্ণালঙ্কার দ্বারা সজ্জিত করে একটি নির্দিষ্ট দিনে উপস্থিত করছেন। এর মাধ্যমে শিলার জীবনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। যা বিবাহকেই নির্দেশ করে।
যদেতৎ হৃদয়ং তব তদস্তু হৃদয়ং মম।
যদিদং হৃদয়ং মম, তদন্ত হৃদয়ং তব।"
"তোমার হৃদয় আমার হোক, আমার হৃদয় হোক তোমার।" এ মন্ত্রের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে গড়ে ওঠে গভীর একাত্মতার সম্পর্ক। জীবন হয় একসূত্রে গাঁথা। আমৃত্যু তারা সুখে-দুঃখে একসাথে থাকার প্রতিজ্ঞা করে এবং জীবনের নতুন অধ্যায়ে শুরু হয়। পথ চলা।
হিন্দু বিবাহে কতকগুলো বিধিবিধান শাস্ত্রীয়, কতকগুলো অনুষ্ঠান স্ত্রী-আচার। হিন্দুবিবাহ কোনো চুক্তি নয়, জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ সংস্কারমূলক অধ্যায়। শুভলগ্নে নারায়ণ, অগ্নি, গুরু, পুরোহিত, আত্মীয় এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাক্ষী রেখে মঙ্গলমন্ত্রের উচ্চারণ, উলুধ্বনি ও শঙ্খধ্বনির মাধ্যমে বিবাহ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। বিয়ের অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয় যজ্ঞ এবং কতকগুলো লোকাচারের মাধ্যমে। বিবাহ অনুষ্ঠানের অনেক পর্ব আছে। যেমন- আশীর্বাদ, অধিবাস, বৃদ্ধিশ্রাদ্ধ, গায়ে হলুদ (গাত্র হরিদ্রা), বর-বরণ, শুভদৃষ্টি, মালাবদল, সম্প্রদান, যজ্ঞানুষ্ঠান ও সাতপাকে বাঁধা, সিঁথিতে বিবাহ চিহ্ন, সপ্তপদীগমন, বাসি বিয়ে অষ্টমঙ্গলা প্রভৃতি। এর মধ্যে কিছু পর্ব শাস্ত্রীয়, আর কিছু অঞ্চলভেদে লোকাচার।