1 Answers
উদ্দীপকে উল্লিখিত স্বাধীনতা যুদ্ধের যে শ্রেণির ব্যক্তিদের সাহসের প্রতিচ্ছবি প্রকাশিত হয়েছে তারা হলেন ছাত্রসমাজ। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্ররা নিজের দেশকে, দেশের মানুষকে শত্রুমুক্ত করার জন্য অস্ত্র হাতে রাজপথে নেমে এসেছিল। শত্রুর মোকাবিলা করেছিল। পাকিস্তানের চব্বিশ বছরে বাঙালি জাতির স্বার্থসংশ্লিষ্ট সকল আন্দোলনে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেছে এদেশের ছাত্রসমাজ। ১৯৪৮ ও ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ ও ১৯৬৪ সালের শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ৬ দফার আন্দোলন, ১৯৬৮ সালে ১১ দফার আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে অসহযোগ আন্দোলন, প্রতিটি ক্ষেত্রে ছাত্রসমাজ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের বিরাট অংশ সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেয়। অনেকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করে।
মুক্তিবাহিনীতে একক গোষ্ঠী হিসেবে ছাত্রদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। মুক্তিবাহিনীর অনিয়মিত শাখার এক বিরাট অংশ ছিল ছাত্র। মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল মূলত ছাত্রদের নিয়ে। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত হয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। সর্বোপরি বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে ছাত্র সমাজের মহান আত্মত্যাগ ব্যতীত স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতো।