1 Answers

'B' সাহেবের সরকারই ছিল মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী তৈরির উদ্যোক্তা-প্রশ্নোক্ত উক্তিটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের আলোকে যথার্থ।

তথ্য-২-এ 'B' দ্বারা মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদকে নির্দেশ করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য সামরিক, বেসামরিক জনগণকে নিয়ে একটি মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। উক্ত সরকার বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিয়োগ করেছিল। এছাড়া বেশকিছু সাব-সেক্টর এবং তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠিত হয়। এসব বাহিনীতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কর্মরত বাঙালি সেনা কর্মকর্তা, সেনা সদস্য, পুলিশ, ইপিআর, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যগণ যোগদান করেন। প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যোদ্ধা ছিলেন। এরা মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিলেন। এসব বাহিনীতে দেশের ছাত্র, যুবক, নারী, কৃষক, রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থক শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল। বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ শেষে যোদ্ধাগণ দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি সামরিক ছাউনি বা আস্তানায় হামলা চালায়। মুক্তিযুদে সরকারের অধীন বিভিন্ন বাহিনী ছাড়াও বেশ কয়েকটি সামরিক বাহিনী দেশের অভ্যন্তরে স্বতঃস্ফূর্তভাবে গড়ে উঠেছিল। এসব সংগঠন স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি বাহিনী ও রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিল। এক্ষেত্রে টাঙ্গাইলের কাদেরিয়া বাহিনীর কথা উল্লেখ করা যায়।

পরিশেষে বলা যায়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধাগণ মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বে দেশকে পাকিস্তানিদের দখলমুক্ত করার জন্য রণক্ষেত্রে যুদ্ধ করেছেন, দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছেন, অনেকে আহত হয়েছেন। তাই উক্ত অস্থায়ী সরকারকেই মুক্তিযোদ্ধা বাহিনী তৈরির উদ্যোক্তা বলা সমীচীন।

5 views

Related Questions