1 Answers
বুদ্ধবাণীকে অট্ঠকথা সাহিত্যের সাহায্যে ব্যাখ্যা করলে তা সঠিকভাবে মানুষের কাছে পৌছাবে বলে আমি মনে করি।
কেননা অট্ঠকথাসমূহে সাধারণত ত্রিপিটকের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে অট্ঠকথার সাহায্যে সহজে এবং যথাযথভাবে বুদ্ধবাণী বোঝা যায়। তাছাড়া, কালের বিবর্তনে বা অন্য কোনো কারণবশত ত্রিপিটকের বিষয়বস্তুতে সংযোজন-বিয়োজন বা পরিবর্তন-পরিবর্ধন ঘটেছে কি না তা সহজে নির্ণয় করা যায়। ত্রিপিটক অনুবাদের ক্ষেত্রেও অঠকথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ত্রিপিটকে বহু দুর্বোধ্য এবং জটিল বিষয় রয়েছে, যা অনুবাদ করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দেয়। কারণ, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপিটকের অনেক শব্দ দুর্বোধ্য রূপ পরিগ্রহ করেছে। কিন্তু অট্ঠকথায় সেসব জটিল ও দুর্বোধ্য শব্দের যথাযথ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। এ কারণে অঠকথার সাহায্যে যথাযথভাবে ত্রিপিটক এবং পালি সাহিত্য অনুবাদ করা যায়।
অট্ঠকথার পরবর্তীকালে বুদ্ধের জীবনচরিত, ধর্ম-দর্শন, বৌদ্ধধর্মের প্রচার-প্রসার এবং বৌদ্ধ সঙ্ঘের ইতিহাস নিয়ে পালি ভাষায় অনেক গ্রন্থ রচিত হয়েছে। অঠকথার সাহায্যে যেসব গ্রন্থে বর্ণিত তথ্যের ঐতিহাসিকত্ব নির্ণয় করা যায়। বাক্যাংশের উদ্ধৃতি দেওয়া আধুনিক অভিধানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। অঠকথায় উদ্ধৃতিসহ প্রচুর শব্দার্থ পাওয়া যায়। অঠকথার শব্দার্থের সাহায্যে আধুনিক অভিধান রচনা করা সম্ভব। অঠকথা সাহিত্য পালি ভাষায় রচিত এবং পালি এক ধরনের প্রাকৃত, যা মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা হতে উদ্ভূত। ত্রিপিটক রচনার মধ্য দিয়ে পালি ভাষা সাহিত্যিক ভাষা হিসেবে মর্যাদা লাভ করে।