শান্তনুর মধ্যে কোন যোগের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়? উদ্দীপকের আলোকে তোমার মতামত ব্যক্ত কর। (প্রয়োগ)
1 Answers
শান্তনুর মধ্যে ভক্তিযোগের বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।
ভক্তিকে অবলম্বন করে যে ঈশ্বর আরাধনা তাকে ভক্তিযোগ বলে। ভক্তিকে অবলম্বন করে ভগবানের সঙ্গে যোগসূত্র রচনা করা হচ্ছে ভক্তিযোগ। ভক্তির অশেষ শক্তি, ভক্তিতেই মুক্তি। ভক্তি মানব হৃদয়ের একটি সুকুমার বৃত্তি। উদ্দীপকের শান্তনুর শিক্ষক দীনবন্ধু বাবুর প্রতি যে অগাধ শ্রদ্ধা ও ভক্তি লক্ষ করা যায় তার মাধ্যমে ভক্তিযোগকেই তুলে ধরা হয়েছে। শান্তনুকে দেখা যায়, মাথা অবনত করে স্যারের পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে। এটি ভক্তিযোগেরই বহিঃপ্রকাশ। ঈশ্বরকে যারা গুণময়রূপে আরাধনা করেন তাঁরাই মূলত ভক্তি পথের সাধক। ভক্তিকে অবলম্বন করে যিনি সাধনা করেন তিনিই ভক্ত। ভক্ত সম্বন্ধে গীতায় বলা হয়েছে- যে ব্যক্তি আসক্তি, ভয় ও ক্রোধ ত্যাগ করে ঈশ্বরের শরণাপন্ন হন, তিনি ভগবদভাব লাভ করেন। তার পাপ তাপ দুঃখ বেদনা থাকে না। ভক্তির মাধ্যমে ভক্ত ভগবানের অনুগ্রহ পেয়ে থাকেন। ভগবানের শ্রীচরণে আত্মসমর্পণই ভক্তিযোগের প্রধান কথা। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এ ভক্তির মূলে থাকবে গভীর বিশ্বাস ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, তিনি করুণাময়, তিনি ভক্তবাঞ্ছা-কল্পতরু। ভক্তিযোগে ভক্তের চিত্তে ভগবানের অশেষ করুণা ও সর্বশক্তিমত্তায় থাকে গভীর বিশ্বাস। এ বিশ্বাস অবলম্বন করে ভক্ত ভগবানকে একমাত্র আশ্রয়স্থল মনে করেন। ভগবান একমাত্র গতি। এ অনুভূতি নিয়ে ভগবানে আত্মসমর্পণই ভক্তিমার্গের প্রধান ভাব। অর্থাৎ ভগবানে শরণাগতি বা আত্মসমর্পণ ভক্তিযোগের সারকথা। উদ্দীপকের শান্তনুর মাঝে উক্ত যোগের বৈশিষ্ট্যই পরিলক্ষিত হয়।