1 Answers
উদ্দীপকের 'মুখের সমগ্র মুখ জনগণ'- এই চরণের মুখ হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মুখ আর জনগণ হলেন বাংলাদেশের জনগণ।
১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতা ঘোষণার পর পরই বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করা হলে বাংলাদেশের সমস্ত মানুষের মুখই হয়ে ওঠে বঙ্গবন্ধুর মুখচ্ছবি। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর চেতনায় আলোকিত হয়ে ওঠে সমগ্র দেশ।
'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতাটিতে আমরা জনসমুদ্রের উদ্যান সৈকতরূপ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ব্যাকুল বিদ্রোহী শ্রোতারূপ প্রতিবাদী বাঙালির বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ শোনার জন্য অধীর অপেক্ষার কথা জানতে পারি। সেই সমাবেশে জনসমুদ্রে জোয়ার এনে দিয়ে, গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবিরূপ বঙ্গবন্ধু রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে মঞ্চে উঠলেন। আর তখনই সমগ্র সমাবেশে মানুষের সমস্বরে সেই কবিকে অভিবাদন জানানো হয় কবিতারূপ সেই ভাষণের জন্য। উদ্দীপকে বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ ও তাঁর বজ্রকণ্ঠের কথা বলা হয়েছে। সেখানে রক্ত লাল চিত্রকল্পের মধ্যে যে জ্যোতির কথা বলা হয়েছে সে জ্যোতিতে বঙ্গবন্ধুর দেশপ্রেমের শক্তিই প্রকাশিত।
বঙ্গবন্ধু শুধু একটি নাম নয়, একটি জাতির ইতিহাস। শৃঙ্খলিত, নিপীড়িত, শোষিত মানুষের মুক্তির প্রতীক বঙ্গবন্ধু। 'স্বাধীনতা, এ শব্দটি কীভাবে আমাদের হলো' কবিতায় উল্লেখকৃত ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে সেই মুক্তিরই নির্দেশনা রয়েছে। আর সেই নির্দেশনা ও নেতৃত্বের কারণেই উদ্দীপকের 'মুখের সমগ্র মুখ জনগণ' চরণটি আলোচ্য কবিতায় বর্ণিত ভাষণেরই প্রতিফল। তাই প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটিকে যথার্থ বলা যায়।