1 Answers

মক্কা বিজয়ের পর চরম শত্রুদের হাতের নাগালে পেয়েও মহানবি (স.) এর ক্ষমার দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল।

অনুকূল পরিবেশ পাওয়ায় মদিনায় ইসলামের প্রচার ও প্রসার খুব দ্রুত ঘটতে লাগল। ষষ্ঠ হিজরিতে মক্কার কুরাইশরা মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ও মুসলমানদের সাথে হুদায়বিয়ার সন্ধি করে। কুরাইশরা সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করলে রাসুল (স.) ৬৩০ খ্রিস্টাব্দে ১০০০০ (দশ হাজার) মুসলিম নিয়ে মক্কা অভিমুখে অভিযান পরিচালনা করেন। মক্কার অদূরে হযরত মুহাম্মদ (স.) তাঁবু স্থাপন করেন। কুরাইশরা মুসলিমদের এ বাহিনী দেখে ভীতসন্ত্রস্ত হলো। তারা কোনো প্রকার বাধা দেওয়ার সাহস করল না। বিনা রক্তপাতে ও বিনা বাধায় মুসলিম বাহিনী মক্কা বিজয় করল। মক্কা বিজয়ের পর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করে বললেন, "আজ তোমাদের প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই, যাও তোমরা মুক্ত ও স্বাধীন।"

সে সময়ে তিনি ইসলামের চরম শত্রু আবু সুফিয়ানসহ সকলকে হাতের নাগালে পেয়েও যেভাবে ক্ষমা করে দিয়েছেন মানবতার ইতিহাসে তা বিরল। ভুল বুঝতে পারার পর আমাদের শত্রুরা অনুতপ্ত হলে আমরাও তাদের বিনা শর্তে ক্ষমা করে দেব। ক্ষমা একটি মহৎ গুণ।

মক্কা বিজয়ের পর দলে দলে লোক ইসলাম গ্রহণ করতে লাগল। আরবের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসলাম পৌছে গেল। হযরত মুহাম্মদ (স.) বুঝলেন আর বেশিদিন পৃথিবীতে তাঁর থাকা হবে না। তাই তিনি ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে (দশম হিজরিতে) হজ করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। এ উদ্দেশ্যে উক্ত সালের ফেব্রুয়ারি (যিলকদ) মাসে লক্ষাধিক সাহাবি নিয়ে হজ করতে গেলেন, যা বিদায় হজ নামে পরিচিত।

4 views

Related Questions