1 Answers

"উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে বলা যায়, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে।"- মন্তব্যটি যথার্থ।

সৌন্দর্যপিপাসু মানুষ সৃষ্টিশীল। তারা নিজেদের অনুভব দিয়ে যে সৌন্দর্যকে ধারণ করেন তা প্রকাশের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। তাদের এ সৌন্দর্যসচেতনতার ব্যাকুল প্রকাশেই নান্দনিক হয়ে ওঠে তাদের রচিত শিল্পকর্ম।

'ঝরনার গান' কবিতাটিতে স্তব্ধ পাথরের বুকে আনন্দের পদচিহ্ন এঁকে যাওয়া ঝরনার চিত্রকল্প এঁকেছেন কবি। পাহাড় যেখানে দৈত্যের মতো ঘাড় ঘুরিয়ে ভয় দেখায়, যেখানে লোকজন নেই, যে জায়গা নীরব-নিভৃত সেখানে আনন্দময় পদধ্বনিতে নেমে আসে ঝরনার সেই সাদা জলরাশির ধারা। কবি তাঁর অনুভব দিয়ে ঝরনার আনন্দ টের পেয়েছেন এবং কবিতাটিতেও ঝরনার সেই আনন্দকেই প্রকাশ করেছেন। উদ্দীপকটিতে বিবৃত আনন্দের বহিঃপ্রকাশ মানুষের সৃষ্টিশীলতারই বাঙ্ময় প্রকাশ। মানুষ আনন্দকে অনুভব করে রূপ-রস-শব্দ-স্পর্শ-গন্ধ ইত্যাদির সাহায্যে। আর মানুষ নিজের আনন্দ সবসময়ই প্রকাশ করতে চায়। মানুষের এই আনন্দের বিবিধ প্রকাশই ফুটে ওঠে নানা শিল্পকর্মে। যেমন করে 'ঝরনার গান' কবিতায় কবি ফুটিয়ে তুলেছেন ঝরনার বয়ে চলার আনন্দকে। কবিচিত্তের চমৎকার আনন্দময় উপলব্ধিই ঝরনার মাধ্যমে কবিতাটিতে প্রকাশিত হয়েছে।

উদ্দীপকটিতে মানুষের সৃষ্টিশীলতার কারণ ব্যাখ্যা করা হয়েছে। মানুষের ব্যক্তিগত আনন্দ উপভোগের প্রকাশই নান্দনিক ও অপূর্ব হয়ে ওঠে তাদের সৃষ্টিকর্মে। 'ঝরনার গান' কবিতায় ঝরনার সাদা জলরাশির যে আনন্দ প্রকাশ পেয়েছে, তা তো ভাষিকভাবে মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব নয়। কিন্তু কবি ঝরনার সেই আনন্দকে প্রকাশ করতে পেরেছেন, কারণ কবি নিজেই প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে আনন্দে বিভোর হয়েছেন। সুতরাং উদ্দীপকের পরিপ্রেক্ষিত থেকে এটা বলাই যায় যে, 'ঝরনার গান' কবিতায় কবির নিজস্ব সৌন্দর্যসচেতন মানসিকতাই ঝরনার রূপকে ফুটে উঠেছে।

5 views

Related Questions