1 Answers
"উদ্দীপকের ভাষাসৈনিকদের পূর্বসূরি যেন 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবি।"- উক্তিটি যথার্থ।
বাঙালি জাতি যুগ যুগ ধরে ঔপনিবেশিক শক্তি দ্বারা শাসিত-শোষিত, নির্যাতিত হয়েছে। তারা বারবার তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে, প্রতিবাদ করেছে। এ দেশের শত্রুরা একসময় বাঙালির মুখের ভাষাও কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তখন বাংলার বীর সন্তানেরা বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার দামাল ছেলেরা মাতৃভাষার মান রক্ষার্থে রাজপথে জীবন দেন। মাতৃভাষার জন্য এমন আবেগ-অনুভূতির দৃষ্টান্ত ইতিহাসে বিরল। বাংলার সূর্যসন্তানরা প্রমাণ করেছেন মা, মাটি ও মাতৃভাষা তাঁদের কাছে সমান ভালোবাসার জিনিস। 'বঙ্গবাণী' কবিতায় কবি ভাষা আন্দোলনের বহু বছর আগেই মাতৃভাষা বাংলার প্রতি গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন। তিনি বাঙালিদের মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসার আগ্রহ সৃষ্টির কথা বলেছেন। যারা এ দেশে বসবাস করেও মাতৃভাষার প্রতি মমত্ব বোধ করে না, কবি তাদের এ দেশ ত্যাগ করে বিদেশ চলে যেতে বলেছেন।
'বঙ্গবাণী' কবিতার কবি কয়েকশ বছর আগে বাংলা ভাষার প্রতি গভীর অনুরাগ দেখিয়ে যে প্রতিবাদী বাক্য উচ্চারণ করেছিলেন, বহু বছর পর বাঙালি বীর সন্তানেরা সেই ভাষার জন্য জীবন দিয়ে তার পূর্ণ বহিঃপ্রকাশ করেছেন। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকের ভাষাসৈনিকদের পূর্বসূরি যেন 'বঙ্গবাণী' কবিতার কবি।