1 Answers
সফিনার ব্যাপারে তার মায়ের দেওয়া পরামর্শ অত্যন্ত যৌক্তিক বলে আমি মনে করি। কেননা হিংসা-বিদ্বেষ আখলাকে যামিমাহ-র অন্যতম নিকৃষ্ট দিক।
হিংসা-বিদ্বেষ মানে অন্যের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করা, নিজেকে বড় মনে করা, অন্যকে ঘৃণা করা, শত্রুতাবশত অন্যের ক্ষতি কামনা করা, অন্যের উন্নতি, সুখ সহ্য করতে না পারা ইত্যাদি। হিংসা-বিদ্বেষ মানব চরিত্রের অত্যন্ত নিন্দনীয় স্বভাব। এটি মানব চরিত্রকে ধ্বংস করে দেয়। উদ্দীপকে সফিনা তার বান্ধবী সালেহাকে হিংসা করে কুৎসা রটায়। সফিনার এ ধরনের কাজ আখলাকে যামিমাহর অন্তর্ভুক্ত। হিংসুক ব্যক্তি নিজেকে বড় মনে করে, নিজের স্বার্থকে সবচেয়ে বড় করে দেখে। সে অন্যকে ঘৃণা করে, অন্যের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে, অন্যের অনিষ্ট কামনা করে। এতে মানবসমাজে ঐক্য, সংহতি, শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। এর ফলে জাতির মধ্যে বিভেদ বৈষম্য দেখা দেয়, শত্রুতা বৃদ্ধি পায়। এতে মুসলিম জাতির ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়। হিংসা-বিদ্বেষ পরকালীন জীবনেও মানুষের ক্ষতির কারণ। হিংসা মানুষের সকল নেক আমলকে ধ্বংস করে দেয়। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেছেন, “তোমরা হিংসা থেকে বেঁচে থাক। কেননা আগুন যেমন কাঠকে খেয়ে ফেলে (পুড়িয়ে দেয়), হিংসাও তেমনি মানুষের সৎকর্মগুলোকে খেয়ে ফেলে (নষ্ট করে দেয়)।” (আবু দাউদ) তিনি আরও বলেছেন, "তিন ব্যক্তির গুনাহ মাফ হয় না। তন্মধ্যে একজন হবে অন্যের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী।" (আদাবুল মুফরাদ) আর এ হাদিসটিই উদ্দীপকে সফিনার মা তার কর্মকাণ্ড দেখে তাকে শুনিয়েছিলেন। তাই সকলেরই হিংসা-বিদ্বেষ পরিত্যাগ করা উচিত। উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমি মনে করি সফিনার ব্যাপারে তার মায়ের পরামর্শ অত্যন্ত যৌক্তিক এবং যথার্থ।