1 Answers
রাশেদের কার্যক্রম গিবত হিসেবে গণ্য হবে। কারণ রাশেদ শাহেদের অনুপস্থিতিতে তার দোষ অন্য বন্ধুদের নিকট বলে। গিবত )الغِيبَةُ( শব্দের অর্থ পরনিন্দা, পরচর্চা, অসাক্ষাতে বা অগোচরে অন্যের কুৎসা রটনা করে বেড়ানো ইত্যাদি। এক কথায় কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ বলাকে গিবত বলে। বিস্তারিতভাবে বলতে গেলে কারও অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো দোষ বলা, যা শুনলে সে মনে কষ্ট পাবে।
গিবত একটি মারাত্মক অপরাধ। গিবত করা সম্পর্কে আল্লাহ কঠোর বাণী উচ্চারণ করে বলেন, "তোমরা একে অন্যের গিবত কর না। তোমাদের মধ্যে কেউ কি তার মৃত ভাইয়ের মাংস খেতে ভালোবাসবে? বস্তুত তোমরা নিজেরাই তা অপছন্দ করে থাকো।” (সূরা আল-হুজুরাত : ১২) অর্থাৎ মৃত ভাইয়ের মাংস খাওয়ার ন্যায় জঘন্য অপরাধ হচ্ছে গিবত করা। সমাজের মানুষের মধ্যে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয় এবং মানসিক অশান্তি বৃদ্ধি পায়। সামাজিকভাবে ফিতনা-ফাসাদের সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী ইত্যাদি সকলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয় এবং সম্পর্কের অবনতি ঘটে। বান্দা যখন গিবত করে তখন তার অনেক নেক আমল ধ্বংস হতে থাকে। ফলে তার পরকালীন জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী গিবতকারীর ইবাদত কবুল হয় না। রোযা রেখে গিবত করলে রোযার সাওয়াব নষ্ট হয়ে যায়। সব মিলিয়ে গিবত মারাত্মকভাবে মুমিনের ইবাদত ক্ষতি করে। ইসলামে গিবতকে হারাম করা হয়েছে। এটি কবীরা গুনাহের পর্যায়ভুক্ত। তাওবা ব্যতীত গিবতের গুনাহ মাফ হয় না। গিবতের অনিবার্য পরিণতি হলো জাহান্নাম।