1 Answers

অনামিকা কুরআন নাজিল হওয়া সম্পর্কে প্রথমে যে বিষয়টি জানতে পারে, তা হলো- কুরআন একসঙ্গে নাজিল হয়নি; বরং এটি খন্ড খন্ডভাবে নাজিল হয়েছে।

পাঠ্যবই অধ্যয়নে আমরা জানতে পারি, ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন পর্যায়ে ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কুরআন খন্ডাকারে সুদীর্ঘ ২৩ বছরব্যাপী পর্যায়ক্রমে নাজিল হয়েছিল। পবিত্র কুরআন হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর খন্ডাকারে নাজিল হওয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে। তাফসিরকারকগণ পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে যেসব কারণের কথা বলেছেন তার সার-সংক্ষেপ হলো-

১. ইসলামবিরোধী কাফির মুশরিকদের বিভিন্নমুখী নির্যাতন, নিপীড়ন ও উৎপীড়নের মোকাবিলায় নবি (স.)-এর হৃদয়- মনকে দৃঢ় রাখার জন্য। 

২. পূর্ণ কুরআন একসঙ্গে নাজিল হলে তা বহন করা কোমল হৃদয়সত্তার অধিকারী নবি (স.)-এর জন্য কষ্টসাধ্য হতো। 

৩. শরিয়তের বিধিবিধান ও নির্দেশাবলি পর্যায়ক্রমে জারি করা ও পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়নের জন্য। 

৪. কুরআন শরিফ হিফয করা, উপলব্ধি করা এবং সে অনুসারে জীবন গঠন করা যাতে সহজসাধ্য হয় তার জন্য।

৫. সমাজ বিপ্লবের লক্ষ্যে সংঘটিত বিভিন্ন বিবরণ পেশ করা এবং এ সমস্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মুসলমানদেরকে সতর্ক করা। তাদেরকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দান করা।

৬. উদ্ভূত পরিস্থিতির মোকাবিলা এবং সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করার জন্য। 

৭. পবিত্র কুরআন যে স্বয়ং আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হচ্ছে মানুষের অন্তরে এ সত্যটি বদ্ধমূল করার জন্য।

বস্তুত এসব তাৎপর্য ও হিকমতের কারণেই পবিত্র কুরআন দুনিয়াতে একসঙ্গে নাজিল না হয়ে খন্ডাকারে অবতীর্ণ হয়। ফলে কুরআন মানবসমাজের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

5 views

Related Questions