1 Answers
অনামিকা পৃথিবীতে কুরআন অবতরণের পদ্ধতি পর্যালোচনা করলে জানতে পারবে যে, কুরআন মজিদ মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর দীর্ঘ ২৩ বছরে নাজিল হয়। বাইতুল ইযযাহ থেকে পৃথিবীতে এটি বিভিন্ন উপায়ে নাজিল হয়। যেমন-
১. সত্য স্বপ্নযোগে : সহিহ আল বুখারিতে ওহি নাজিলের সূচনা সম্পর্কে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) বর্ণনা করেন, নবি কারিম (স.)-এর প্রতি সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে ওহি অবতরণের সূচনা হয়েছিল। অতঃপর তাঁর মধ্যে নির্জনে উপাসনা করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়, তখন তিনি হেরাগুহায় রজনীর পর রজনী উপাসনায় নিমগ্ন থাকতেন। এমতাবস্থায় এক রজনীতে হযরত জিবরাঈল (আ.) মারফত আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর নিকট সূরা আলাকের প্রথম পাঁচটি আয়াত সর্বপ্রথম নাজিল হয়।
২. নিদ্রিত অবস্থায় : ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) নবি কারিম (স.)-এর নিকট নিদ্রিত অবস্থায় আগমন করে ওহি পৌঁছাতেন। যেমন- সূরা আল কাওসার, সূরা আল-মুযাম্মিল, সূরা মুদ্দাসসির প্রভৃতি সূরা।
৩. অন্তরে ফুঁক দিয়ে : আল্লাহ তায়ালা কখনো কখনো মহানবি (স.)-এর অন্তরে কোনো কথা উল্লেখ করতেন অথবা জিব্রাঈল (আ.) মহানবির অন্তরে ফুঁক দিতেন।
৪. পর্দার অন্তরাল হতে: নবি কারিম (স.)-এর সাথে আল্লাহ তায়ালা পর্দার অন্তরাল হতে কথা বলেছেন। যেমন- মিরাজের রাতে রাসুলুল্লাহ (স.)-এর সাথে আল্লাহ পাক পর্দার অন্তরাল হতে কথা বলেছেন।
৫. ঘণ্টাধ্বনির ন্যায়: কখনো কখনো ঘণ্টাধ্বনির ন্যায় শব্দে ওহি নাজিল হতো। ঘণ্টার আওয়াজের ন্যায় ওহির প্রচণ্ডতা ও তীব্রতা ছিল মারাত্মক ও দুঃসই। এমতাবস্থায় প্রচণ্ড ঠান্ডার সময়ও হযরতের দেহ মোবারক হতে টপটপ করে ঘাম ঝরত।
অতএব বলা যায়, উপরিউক্ত বিভিন্ন উপায়ে বা পদ্ধতিতে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর ওপর কুরআন নাজিল হয়েছিল, যা অনামিকা জানতে পারবে।