1 Answers
জাইদুল মিয়ার কর্মের ফলাফল অত্যন্ত মধুর হবে। কারণ সে বিশ্বাস করে নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে। যখনই সে সময় পায় তখনই সে ইবাদতে লিপ্ত হয় এবং তার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করে। মূলত জাইদুলের এ বিশ্বাস ও কর্মকাণ্ড পবিত্র কুরআনের সূরা আল ইনশিয়াহ্ এর ৬নং আয়াতের প্রতি তার আনুগত্য প্রদর্শনের চিত্র। কারণ সেখানে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "অবশ্যই কষ্টের সাথে স্বস্তি রয়েছে। অতএব আপনি যখনই অবসর পান, একান্তে ইবাদত করুন এবং আপনার প্রতিপালকের প্রতি মনোনিবেশ করুন। মহান আল্লাহর এ বাণীটি এক ভীষণ সংকটময় সময়ে ও বিশেষ প্রেক্ষিতে নাজিল হয়। যার ফলে রাসুল (স.) ও সাহাবিগণ নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। আর প্রেক্ষিতটি হলো- নবুয়ত লাভের পর রাসুল্লাহ (স.) আরবদের মাঝে ইসলাম প্রচার শুরু করেন। এতে মক্কার কাফিররা তাঁর বিরোধিতা শুরু করে। তারা নানাভাবে তাঁকে বাধা দিতে চেষ্টা করে। তারা মহানবি (স.) ও নও মুসলিম সাহাবিদের প্রতি অত্যাচার নির্যাতন করতে থাকে। ফলে মুসলমানগণ তাদের অকথ্য জুলুম-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেন। আল্লাহ তায়ালা এ সময় মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা প্রদান করেন। তিনি বলেন যে, দুঃখের পরই সুখ আসে। কাফিরদের এসব অত্যাচার নির্যাতন দীর্ঘস্থায়ী হবে না। বরং তিনি মুসলমানদের বিজয় দান করবেন। এসব দুঃখকষ্টের পর তারা শান্তি ও স্বস্তি লাভ করবে। এরপর আল্লাহ তায়ালা মহানবি (স.)-কে বিশেষ নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, যখনই ইসলাম প্রচার, সাথিদের প্রশিক্ষণ, পারিবারিক দায়-দায়িত্ব ইত্যাদি থেকে তিনি অবসর হন তখন তিনি যেন আল্লাহর ইবাদতে আত্মনিয়োগ করেন।
আল্লাহর এ নির্দেশ পালনের ফলে জাইদুল মিয়া তার যাবতীয় কষ্ট হতে মুক্তি পাবে, সুখশান্তি লাভ করবে এবং পরকালে জাহান্নামের কঠিন শাস্তি হতে নাজাত লাভ করবে। অর্থাৎ জাইদুলের জীবনের সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ সাধিত হবে।