1 Answers

"ভাবনার মিল থাকলেও উদ্দীপক ও পঠিত গল্পের মূল চেতনা ভিন্ন"- মন্তব্যটি যথার্থ।

জগৎ-সংসারে এমন অনেক মানুষ আছেন যারা সবার কল্যাণে নিরন্তর কাজ করে চলেন, অথচ তারা নানাভাবে ধনিক শ্রেণির নির্যাতনের শিকার হন। এভাবে সমাজে নারীরাও অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়।

উদ্দীপকে কুলি-মজুরদের প্রতি বাবু সাবদের অবহেলা ও নির্যাতনের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। তারা শ্রমজীবীদের শ্রমের মর্যাদা না দিয়ে শ্রম শোষণ করে। তাদের এই অমানবিকতার দিকটি 'নিমগাছ' গল্পের নিমগাছের উপকারের বিষয়টি স্বীকার না করা অকৃতজ্ঞদের মানসিকতার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে শ্রমজীবীদের শ্রমের মূল্য ও মর্যাদা না দিয়ে তাদেরকে অবহেলা করে দূরে সরিয়ে রাখার বিষয়টি এবং 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের ঋণ স্বীকার না করে অকৃতজ্ঞ হওয়ার বিষয়টি এক। তবে গল্প ও উদ্দীপকে প্রতিফলিত মূল চেতনা ভিন্ন।

'নিমগাছ' গল্পে লেখক নিমগাছের প্রতীকে বাঙলি সমাজে নারীর অবস্থান তুলে ধরেছেন। তারা সংসারের জন্য দিন-রাত পরিশ্রম করেও অবহেলা ও অমর্যাদার শিকার হন। তাদের চাওয়া-পাওয়ার মূল্য দেওয়া হয় না। অন্যদিকে উদ্দীপকেও শ্রমজীবী এবং শ্রমশোষণের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে নিম্নশ্রেণির মানুষের শ্রমের উপযুক্ত মূল্য ও মর্যাদা দেওয়া হয় না। 'নিমগাছ' গল্পে নিমগাছের সৌন্দর্যে কবির যে মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে তা উদ্দীপকে নেই। এ গল্পে গৃহকর্ম-নিপুণা লক্ষ্মীবউটির করুণ অবস্থাটিও উদ্দীপকে যথার্থভাবে প্রকাশ পায়নি। এ দিক বিচারে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

4 views

Related Questions