1 Answers
অনুচ্ছেদটিতে আমরা দুটি চরিত্র দেখতে পাই। প্রথম চরিত্র শাফী আল্লাহতে বিশ্বাসী এবং দ্বিতীয় চরিত্র কাফী আল্লাহতে বিশ্বাস করে না। শাফী মনে করে পাহাড়-পর্বত, ঝরনাধারা ও সমুদ্রের মনোরম দৃশ্যাবলি সবই আল্লাহর সৃষ্টি। পক্ষান্তরে, কাফী মনে করে এসব কোনো একক সত্তার সৃষ্টি নয়, এগুলো প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। অর্থাৎ শাফী আল্লাহতে বিশ্বাস করলেও কাফী আল্লাহতে বিশ্বাস করে না। অতএব, আমি এক্ষেত্রে শাফীর মতামতকেই অধিক যৌক্তিক মনে করি।
শাফীর বক্তব্যের সাথে আমি একমত হয়ে বলব যে, সমগ্র বিশ্বজগৎ আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই এ সৃষ্টিজগৎকে সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করছেন। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যদি আকাশ ও পৃথিবীতে আল্লাহ ছাড়া একাধিক ইলাহ থাকত তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।” আমরা একটু চিন্তা করলেই সবাই এ আয়াতের সত্যতা স্বীকার করতে বাধ্য। কেননা এ বিশাল পৃথিবীকে আল্লাহপাক একটি নির্দিষ্ট নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন। সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই এটি নির্ধারিত নিয়মে পরিচালিত হয়ে আসছে। চন্দ্র-সূর্য, গ্রহ-নক্ষত্র থেকে শুরু করে সাগর-মহাসাগর, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি সবকিছুই একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত হচ্ছে। দিনরাতের আবর্তন, গ্রহ-নক্ষত্রের অবস্থানে কোথাও কোনো প্রকার অনিয়ম নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে, এ বিশাল সৃষ্টির এক মহাপরাক্রমশালী সৃষ্টিকর্তা ও নিয়ন্ত্রণকারী আছেন। একের অধিক সৃষ্টিকর্তা থাকলে এরূপ নিয়মশৃঙ্খলা থাকত না কিংবা প্রাকৃতিকভাবে সবকিছু এতটা সুনিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালিতও হতো না।