উদ্দীপকে হোসনার স্বামীর শাড়ি তৈরির ঘটনাটি অ্যারিস্টটলের নীতির আলোকে বিশ্লেষণ কর। (উচ্চতর দক্ষতা)
1 Answers
উদ্দীপকে হোসনার স্বামীর শাড়ি তৈরির ঘটনায় কার্যকারণ নীতি প্রতিফলিত হয়েছে। এই ঘটনাকে অ্যারিস্টটলের কার্যকারণ নীতির ভিত্তিতে আলোচনা করা হলো-
প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটলের মতে, কারণ কোনো সরল ঘটনা নয় বরং এক জটিল ঘটনা। তাই কারণকে বিশ্লেষণ করলে এর মধ্যে চারটি অংশ পাওয়া যায় এবং চারটি অংশের প্রত্যেটিই কারণ বলে বিবেচিত হয়। এই চারটি অংশ হলো- (১) উপাদানগত কারণ, (২) আকারগত কারণ, (৩) নিমিত্ত কারণ এবং (৪) চরম কারণ।
যে উপাদান দিয়ে একটি বস্তু তৈরি হয় তা-ই হলো সেই বস্তুর 'উপাদানগত কারণ'। মূলত কার্যটা কী হবে তার প্রকৃতি আসলে বস্তুর প্রকৃতি দিয়ে নির্ণীত হয়। এক্ষেত্রে উদ্দীপকের হোসনার স্বামী জামদানি সুতা দিয়ে শাড়ি তৈরি করে; এ কারণে জামদানি সুতা হলো জামদানি শাড়ির উপাদানগত কারণ। আবার কার্য সংঘটনের সময় শুধু বস্তুটির মধ্যে যে পরিবর্তন হয় তা-ই নয়, বরং বস্তুর নিজস্ব আকৃতিরও পরিবর্তন ঘটে। এক্ষেত্রে হোসনার স্বামী জামদানি সুতা দিয়ে জামদানি শাড়ির একটি কাঠামো তৈরি করে। এটিকে ঐ শাড়ির আকারগত কারণ বলা হয়।
তাছাড়া, কোনো কার্য সংঘটনের জন্য যে শক্তি, সামর্থ্য ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়, সেই শক্তি বা দক্ষতাকে ঐ কার্যের নিমিত্ত কারণ বলে। কাজেই হোসনার স্বামীর শাড়ি তৈরির শক্তি বা দক্ষতাকেই ঐ শাড়ির নিমিত্ত কারণ। উদ্দেশ্য নিয়ে বস্তুর মধ্যে পরিবর্তন সাধন করা হয়, সেই উদ্দেশ্যকেই 'চরম কারণ' বলে। এক্ষেত্রে যেহেতু হোসনার স্বামী অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে জামদানি শাড়ি তৈরি করে, সেহেতু অর্থ উপার্জনই তার শাড়ি তৈরির চরম কারণ বলে বিবেচিত হবে এ