1 Answers
উদ্দীপকের আলোকে নিচে আরোহ সমন্বয় ব্যাখ্যা করা হলো-
কোনো ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার ক্ষেত্রে একটি অধিক সম্ভাবনাপূর্ণ বিষয়কে সাময়িকভাবে কারণ হিসেবে অনুমান করাই হলো প্রকল্প। সাধারণত একটি প্রকল্পের বৈধ বা সুসংগত হওয়ার জন্য কতগুলো শর্ত পালন করতে হয়। তবে বৈধতাই একটি প্রকল্পের শেষ কথা নয় বা এর সত্যতা ও যথার্থতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। একটি প্রকল্পের শেষ স্তর হচ্ছে সার্বিক নিয়ম বা মতবাদে উন্নীত হওয়া, যার জন্য একে কতগুলো প্রমাণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অগ্রসর হতে হয়। আর বৈধ বা সুসংহত প্রকল্পের এরূপ একটি প্রমাণ হচ্ছে আরোহ সমন্বয়। অনেক সময় কোনো একটি বিশেষ ঘটনাকে ব্যাখ্যা করার জন্য একটি প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়। পরে দেখা যায়, প্রকল্পটি সেই ঘটনা ছাড়া অন্য আরও কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। সাধারণভাবে প্রকল্পের এরূপ ক্ষমতাকেই বলে 'আরোহ সমন্বয়'। যুক্তিবিদ হিউয়েল হচ্ছেন। আরোহ সমন্বয় এর উদ্ভাবক। তিনি এর স্বরূপ উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন, যে 'ঘটনা ব্যাখ্যা করার জন্য প্রকল্পটি গঠন করা হয়, সেই ঘটনা ছাড়াও প্রকল্পটির অন্য আরও কিছু ব্যাখ্যা করার শক্তিকে বলা হয় আরোহ সমন্বয়। যেমন: ভূপৃষ্ঠে জড়বস্তুর পতনের ব্যাখ্যার বিজ্ঞানী নিউটন মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সম্পর্কিত একটি প্রকল্প গঠন করেছিলেন। পরে দেখা যায় যে প্রকল্পটি জড়বস্তুর পতন ছাড়াও জোয়ার-ভাটা, গ্রহ-নক্ষত্রের গতি প্রকৃতি ইত্যাদি বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা প্রদানের সক্ষম। আর এ কারণেই নিউটনের মাধ্যাকর্ষণ শক্তি সম্পর্কিত প্রকল্পটি বর্তমানে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়ম বা তত্ত্বে পরিণত হয়েছে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আরোহ সমন্বয় দ্বারা প্রমাণিত প্রকল্প যথার্থ কারণ অনুসন্ধানে ফলপ্রসূ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।